একদিকে কৃষিজমি রক্ষায় নানা উদ্যোগ ও আইন প্রয়োগ করছে সরকার, অন্যদিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কৃষিজমির বুকেই গড়ে উঠেছে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির দুটি কারখানা। উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের নিঘোরকান্দা এবং বৈলর ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসংলগ্ন কৃষিজমিতে এসব কারখানায় পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে, অ্যাসিড ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করে আগুনে পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা দুটির কার্যক্রমের কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কৃষিজমি, ফসল, মাটি, পানি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো—কারখানাগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স নেই বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

রাতের আঁধারে ব্যাটারি পোড়ানোর অভিযোগ
সরেজমিনে নিঘোরকান্দা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ইটভাটার পাশে কৃষিজমি ভাড়া নিয়ে পুরোনো ব্যাটারি প্রক্রিয়াজাত করার কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকরা পুরোনো ব্যাটারির বিভিন্ন অংশ খুলে আলাদা করছেন। কেউ ব্যাটারির খোলস ও প্লাস্টিক অংশ পৃথক করছেন, আবার কেউ ধাতব অংশ সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় ব্যাটারি ভাঙা ও বিভিন্ন উপাদান আলাদা করার কাজ চলে। পরে রাতে সেগুলো আগুনে পোড়ানো হয়। পোড়ানোর সময় তীব্র ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ে। বৈলর ইউনিয়নের নামাপাড়া এলাকার কারখানাতেও একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেখানে বিপুল পরিমাণ পুরোনো ব্যাটারি এনে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যাটারি পোড়ানোর পর পাওয়া ধাতব পদার্থ ঘন করে বিভিন্ন ব্যাটারি তৈরির কারখানায় বিক্রি করা হয়।
প্রায় অর্ধশত শ্রমিকের কাজ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কারখানা দুটির কার্যক্রমে প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ, ভাঙা, অ্যাসিড ও প্লাস্টিক আলাদা করা এবং ধাতব পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার কাজে তারা নিয়োজিত। তবে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাটারির অ্যাসিড ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করার সময় যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ফসল নষ্টের শঙ্কা কৃষকদের
কারখানার আশপাশের কৃষকদের অভিযোগ, বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ব্যাটারি পোড়ানোর সময় দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা নাহিদ বলেন, ‘দিনের বেলায় ব্যাটারির অ্যাসিডমিশ্রিত সিসা ও প্লাস্টিক আলাদা করা হয়। শুনেছি, রাতে এগুলো পোড়ানো হয়। তখন প্রচুর ধোঁয়া ও ঝাঁঝালো গন্ধ বের হয়। এতে আশপাশের পরিবেশ ও ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
‘কয়েকবার নিষেধ করেছি, বন্ধ হয়নি’
স্থানীয় ইউপি সদস্য ছাইফুল ইসলাম ফরাজী বলেন, ‘কয়েক মাস আগে কৃষিজমিতে পুরোনো ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। দিনে ব্যাটারি সংগ্রহ করা হয়, আর রাতে সেগুলো পোড়ানো হয়। অ্যাসিড ও পুরোনো ব্যাটারি পোড়ানোর কারণে ঝাঁঝালো গন্ধে গোটা এলাকা ভরে যায়। আমি কয়েকবার তাদের নিষেধ করেছি। তারপরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’



-400x300.jpg&w=3840&q=75)



