ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ডা. সানজিদা জান্নাত তনু। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণে পাশে ছিলেন বাবা-মা। পড়াশোনার প্রতিটি ধাপে উৎসাহ দিয়েছেন তাঁরা। অবশেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন তনু। এখন তাঁর লক্ষ্য চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই পড়াশোনায় ভালো ফলাফল ছিল তনুর। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর ঢাকার রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পান। পরে ভর্তি হন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে।
তবে মেডিকেল শিক্ষাজীবনের পথটি সবসময় সহজ ছিল না। পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেই দ্বিতীয় বর্ষে সাংবাদিক তারেক হাসান শিমুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তনু। এরপর একদিকে মেডিকেলের পড়াশোনা, অন্যদিকে সংসার—দুই দায়িত্বই সামলাতে হয়েছে তাঁকে।

তনু বলেন, “মেডিকেলে পড়াশোনার চাপ অনেক বেশি। এর সঙ্গে সংসারের দায়িত্ব সামলানো সহজ ছিল না। তবে আমি কখনো এটাকে বাধা হিসেবে দেখিনি। সময়কে ঠিকভাবে ভাগ করে দুটোই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। পরিবারের সহযোগিতা থাকায় কঠিন সময়গুলো পার হওয়া সহজ হয়েছে।”
তাঁর এই পথচলায় সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন বাবা শাহজাহান কবির, মা লতিফা লাইজু, ছোট বোন সাদিকা তাবাসসুম তানিশা এবং স্বামী তারেক হাসান শিমুল।
বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তনু বলেন, “আমার বাবা-মা ছোটবেলা থেকেই আমার পড়াশোনা ও স্বপ্নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের উৎসাহ ও ত্যাগের কারণেই আজ আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি। তাঁদের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
ছোট বোনের সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, “আমার ছোট বোন তানিশাও সবসময় আমার পাশে ছিল। বিভিন্ন সময়ে তার সহযোগিতা ও মানসিক সমর্থন পেয়েছি। পরিবারের সবাই মিলে আমাকে যে শক্তিটা দিয়েছে, সেটাই কঠিন সময়গুলো পার হওয়ার সাহস দিয়েছে।”
.jpeg)
বিয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী তারেক হাসান শিমুলের ভূমিকার কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তনু। তিনি বলেন, “আমার স্বামী আমার জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। বিয়ের পর মেডিকেলের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং সংসারের সঙ্গে সবকিছু সামলানোর ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগিতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরীক্ষার সময় কিংবা পড়াশোনার চাপের মধ্যে তিনি সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং বুঝেছেন। তাঁর সমর্থন আমার জন্য অনেক বড় বিষয়।”
মেডিকেল শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তনু বলেন, “মেডিকেলে শুধু বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করলেই হয় না, রোগীদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়। ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের সময় বুঝেছি একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আসেন, তখন তাঁর কাছে চিকিৎসকের আচরণও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।”
এমবিবিএস শেষ করার পর এখন মানুষের সেবাকে নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখতে চান তনু। বিশেষ করে রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণকে চিকিৎসা পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন তিনি।
ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে চিকিৎসার কোনো একটি বিষয়ে বিশেষায়িত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। নিজেকে আরও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি।
তনুর ভাষায়, “এমবিবিএস পাস করাটা আমার জীবনের একটি বড় অর্জন। কিন্তু এখানেই শেখার শেষ নয়। সামনে আরও পড়াশোনা করতে চাই, নিজেকে আরও দক্ষ করতে চাই। আর সবকিছুর আগে চাই, আমার জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে মানুষের উপকার করতে।”


.jpeg&w=3840&q=75)




