অলসতার জন্যও যে একটা দিন থাকতে পারে, তা শুনে হয়তো অবাক লাগছে! সারাদিন কাজের চাপ, ব্যস্ততা আর ‘প্রোডাক্টিভ’ থাকার দৌড়ে আমরা বিশ্রাম নেওয়াকেও অনেক সময় অপরাধ মনে করি। কিন্তু সত্যিই কি সব অলসতা খারাপ? বরং কিছু অভ্যাস, যেগুলোকে আমরা অলসতা ভাবি, সেগুলোই হতে পারে বুদ্ধিমত্তার ইঙ্গিত।
আমাদের বেশিরভাগের মনে ‘বুদ্ধিমান’ মানুষ বলতে একটা নির্দিষ্ট ছবি আছে। আমরা ভাবি, তিনি খুব পরিপাটি, গোছানো ও চটপটে হবেন। সব কাজ থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয়। সময় মেনে চলবেন, দ্রুত মেইলের উত্তর দেবেন এবং চাপের মধ্যেও ভালো কাজ করবেন।
তবে গবেষকরা বলছেন, বুদ্ধিমান মানুষের এই রূপটি সবসময় এমন না-ও হতে পারে। প্রকৃত বুদ্ধিমানেরা জানেন তাঁদের মানসিক, শারীরিক ও আবেগীয় শক্তি সীমিত। তাই নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স ধরে রাখতে তাঁরা অনেক সময় এই শক্তি বাঁচিয়ে চলেন। একে আমরা অনেক সময় ‘অলসতা’ ভেবে ভুল করি। কিন্তু গবেষকেরা বলছেন, এসব অলসতা আসলে ব্যক্তির বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলা
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগতে পারে। বুদ্ধিমান মানুষ কেন কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলবেন? পরিশ্রমই তো সাফল্যের চাবিকাঠি! কিন্তু বিষয়টি একটু খেয়াল করলেই বোঝা যায়, কঠিন পরিশ্রম এড়িয়ে চলা মানেই কাজের প্রতি অনীহা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় খাটুনি কমিয়ে কীভাবে সহজে কাজটি করা যায়, সেটি খুঁজে বের করা।
সহজ কোনো উপায় খোঁজা, প্রযুক্তি ব্যবহার করা বা কোনো কাজ অটোমেট করে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় ফাঁকিবাজি ভাবি। কম পরিশ্রমের পথ বেছে নেওয়াকেও নেতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু আসলে এটি এক ধরনের দক্ষতা। বুদ্ধি খাটাতে না পারলে কঠিন কাজকে সহজ করার পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।
২০০৯ সালে ‘নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড বায়োবিহেভিওরাল রিভিউস’ জার্নালে একটি গবেষণায় মস্তিষ্কের বিশেষ কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একে বলা হয় ‘নিউরাল এফিশিয়েন্সি হাইপোথিসিস অফ ইন্টেলিজেন্স’। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষের মস্তিষ্ক সাধারণত অন্যদের চেয়ে কম সক্রিয় হতে পারে। জটিল মানসিক কাজ করার সময়ও এমনটা ঘটে। কেউ কেউ একে কাজের প্রতি উদাসীনতা ভাবতে পারেন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তাঁদের মস্তিষ্ক বাকিদের তুলনায় বেশি গোছানো।
সহজ করে বললে, একজন মানুষ যে কাজটি করতে অনেক সময় ও শক্তি খরচ করছেন, বুদ্ধিমান ব্যক্তি হয়তো সেটিই কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে করে ফেলছেন। বাইরে থেকে মনে হতে পারে, তিনি খুব একটা চেষ্টা করেননি। কিন্তু বাস্তবে তিনি শুরুতেই সহজ ও কার্যকর পথটি খুঁজে নিয়েছেন। যাকে আমরা অলসতা বলি, তা আসলে ‘সিস্টেম-লেভেল থিংকিং’। কম খেটে বেশি ফল পাওয়ার চেষ্টা। এ ধরনের চিন্তায় শুধু কতটা পরিশ্রম করা হলো, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; শেষ পর্যন্ত কতটা ভালো ফল পাওয়া গেল, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি ঘুমানো, দুপুরে ‘ন্যাপ’ নেওয়া
দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা বা দিনের বেলা একটু ঘুমিয়ে নেওয়াকে আমরা অনেক সময় অলসতার লক্ষণ মনে করি। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান বলছে অন্য কথা।
২০১৫ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়। সেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং ঘুমের ধরনের সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছিল। বিশেষ করে দুপুরের ঘুমের সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা হয়। ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে মস্তিষ্কে এক ধরনের দ্রুত বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দেখা যায়। এগুলোকে বলা হয় ‘স্লিপ স্পিন্ডলস’। স্মৃতি ধরে রাখা এবং নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে এই তরঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।







