গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর প্রতারণা মামলার আসামী হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগিদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার শ্বশুরবাড়ি এলাকা ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রতারিত পরিবারের সদস্যরা| দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে তরুণী দাসের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন তারা| সেইসাথে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার শতাধিক প্রতারিত পরিবার এ ব্যাপারে ন্যায়বিচার ও ভূক্তভোগী পরিবারে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান| মানববন্ধনে গোলাম মোরশেদ খান, আব্দুল হালিম মন্ডল, খাইরুল ইসলাম খান, শফিকুল ইসলাম, আনিছুর রহমান, মারুফ খানসহ অন্যান্য ভুক্তভোগিরা বক্তব্য রাখেন|
এদিকে গতকাল অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তারের পর প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ ইসলামকে ময়মনসিংহ জেলা যুগ্ম দায়রা জজ (অর্থ ও ঋণ) আদালতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে| পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন|
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার আজিজ টুটুল জানান, ঢাকা জেলার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ফুলবাড়িয়া থানার দায়ের করা প্রতারণা মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে আদালতে হাজির করা হয়| দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আদালত তাকে চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন|
বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে প্রতারণার শিকার প্রায় ৪০ জন ব্যক্তি ও ফুলবাড়িয়ার স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন| এ সময় বক্তারা অভিযোগ করেন, চাকরি, সরকারি ঘর, সেচের পাম্প প্রদান ও বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে হরিদাস কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন| তারা তাকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর এজেন্ট বলে অভিযোগ তুলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান| পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়|
ফুলবাড়িয়া উপঝেলার মেসার্স শফিক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে হরিদাস তার প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৪০ টাকার নির্মাণসামগ্রী বাকিতে নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেননি| এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে| এছাড়াও ৬০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়া এবং চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা রয়েছে|
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই মানি লন্ডারিং মামলায় হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়| পরে তদন্তে তার ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে|
জানা যায়, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর বাসিন্দা হরিদাস ২০১০ সালে রাজধানীতে এসি মেরামতের কাজ শুরু করেন| ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে 'তাওহীদ ইসলাম' নাম ব্যবহার শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বিয়ে করেন| পরে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছবি দেখিয়ে ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে ফুলবাড়িয়ায় বিলাসবহুল রিসোর্ট নির্মাণ এবং সম্প্রতি গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন| বর্তমানে তার সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে সিআইডির তদন্ত চলছে|






