ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ট্রাকচাপায় মায়ের গর্ভ ফেটে অলৌকিকভাবে জন্ম নেওয়া সেই শিশু ফাতেমার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাইফুর রহমান। এ সময় ফাতেমার দাদার ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, দাদার মুদি দোকানের জন্য বিক্রয়যোগ্য মালামাল ও নগদ টাকা দেন ডিসি।
শনিবার (২৭ জুন) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের রায়মনি এলাকার শিশু ফাতেমার বাড়িতে গিয়ে দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের কাছে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এ সময় ডিসি শিশু ফাতেমার নিহত বাবা, মা ও বোনের কবর জিয়ারত শেষে পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর নেন।
এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুল করিম লুইন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আল মাহমুদ রাফসান সামি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই ট্রাকচাপায় বাবা, মা ও বোন মারা যাওয়ার পর অলৌকিকভাবে শিশু ফাতেমা জন্ম নেওয়ার খবরে দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে পরিবারটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী।
সেই থেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাইমুল করিম লুইনের মাধ্যমে নিয়মিত এই পরিবারটির খোঁজখবর রাখেন এবং প্রতি মাসে পরিবারটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাসিক খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন।
সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালে এলে তিনি শিশু ফাতেমার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ফাতেমার দাদা ও দুই শিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় ফাতেমার দাদা তার ছোট মুদির দোকানের পুঁজির ব্যবস্থার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানালে তিনি জেলা প্রশাসককে সার্বিক খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ফাতেমার দাদার ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন, দাদার মুদি দোকানের জন্য বিক্রয়যোগ্য মালামাল ও টাকা দেন।
ডিসি সাইফুর রহমান বলেন, ২০২২ সালে এ দুর্ঘটনা সারা দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছিল। তখন অলৌকিকভাবে শিশু ফাতেমা বেঁচে যায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এ সহযোগিতার জন্য আমরা এসেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এই পরিবারটির পাশে থাকব।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাইমুল করিম লুইন বলেন, তৎকালীন সময়ে নির্মম এই দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তার বর্তমান অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের মাধ্যমে আমাকে পরিবারটির খোঁজ নিতে বলেন। এরপর আমি পরিবারটির সার্বিক খোঁজ নিয়ে জানালে ওই মাস থেকে তিনি প্রতি মাসে এই পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন, যা এখনও অব্যাহত আছে। তবে গত নজরুল জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালে এলে এই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ফাতেমার দাদা তার দোকানের জন্য কিছু পুঁজি দাবি করলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তা আজ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে হস্তান্তর করা হলো।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বর্তমানে শিশু ফাতেমা রাজধানীর আজিমপুর ছোট্টমণি নিবাসে রয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৪৬ মাস। তবে তার বয়স ছয় বছর পূর্ণ হলে ছোট্টমণি নিবাস থেকে শিশু ফাতেমাকে দেওয়া হবে এতিমখানায়। এরপর সেখান থেকে পরিবারের কাছে ফাতেমাকে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়াও বর্তমানে শিশু ফাতেমার জন্য সাড়ে ১৩ লাখ টাকা একটি ব্যাংকে জমা আছে বলেও জানান দাদা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল।





