ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিখোঁজের দুই দিন পর বদরুন্নাহার সীমা (১৭) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পুঙ্গায়াই পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত বদরুন্নাহার সীমা ওই গ্রামের বদরুজ্জামান বকুল ও বেবি আক্তারের মেয়ে। সে পুঙ্গায়াই উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল সে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় সীমাকে বকাঝকা করেন তার মা। সেদিন দুপুর ১২টার পর বাড়ি থেকে বের হয় সীমা। ওই সময় তার মা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সীমার সন্ধান পাননি। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে সীমার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুকুরটিতে পানির গভীরতা ছিল প্রায় ২ থেকে ৩ ফুট। পুলিশেরও ধারণা, এ পরিমাণ পানিতে সীমার স্বাভাবিকভাবে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নিহতের বাবা বদরুজ্জামান বকুল বলেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক জায়গায় খুঁজেছি। ভেবেছিলাম, পরীক্ষায় খারাপ করেছে বলে মন খারাপ করে কারও বাড়িতে চলে গেছে। এভাবে মেয়ের লাশ দেখতে হবে ভাবিনি। আমার মেয়ে কীভাবে মারা গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।
তারাকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরের একটি পুকুরে ২ থেকে ৩ ফুট পানির মধ্যে মরদেহটি পাওয়া যায়। পুকুরে যে পরিমাণ পানি ছিল, তাতে মেয়েটির স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর কথা নয়। সুরতহালে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তরুণীর মরদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত রহস্য উন্মোচন করা যাবে।







