জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যেসব কথা বলেন, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আগে থেকেই নিজেকে প্রস্তুত করেন এবং পরিকল্পনাগুলো সুসংগঠিতভাবে সাজিয়ে রাখেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এখন তিনি সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছেন।
শনিবার বিকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দা জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুমে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শুধু একজন নেতার ইচ্ছা থাকলেই হবে না, সমাজের ভালো ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুদিন ধরেই ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, ফার্মার্স কার্ড ও ফোর্স কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করে আসছিলেন। প্রবাসে থাকাকালীন সময়েও তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণে এসব পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন।
ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, তার নির্বাচনী এলাকায় তালিকা প্রণয়নে নানা ধরনের অসঙ্গতি দেখা গেছে। অনেক সচ্ছল পরিবার কার্ড পেয়েছে, অথচ প্রকৃত দরিদ্র ও যোগ্য ব্যক্তিদের কেউ কেউ বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় অবস্থান করে অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের কষ্ট আমি বুঝি। নির্বাচনের আগে আমি বলেছিলাম, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড কার্যক্রমে কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না। কিন্তু এখন দেখছি, যাদের জন্য বেশি প্রয়োজন ছিল, তাদের অনেকেই এই সুবিধা পাননি। এজন্য আমি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।
প্রশাসনের উদ্দেশে কায়সার কামাল বলেন, এটি যেহেতু প্রথম উদ্যোগ, তাই আমি অনুরোধ করব ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অসঙ্গতি না হয়। টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাইনি, তবে উপকারভোগী নির্বাচনে কিছু অসঙ্গতি পেয়েছি। কোনো ধরনের দুর্নীতি হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হবে। আমি নিজে কখনো দুর্নীতি করব না, অন্য কাউকেও করতে দেব না। কাজের গাফিলতিও এক ধরনের দুর্নীতি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শাহ আলম এবং লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।





