‘ময়মনসিংহ বিভাগকে আমরা অবহেলিত বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই না’ মন্তব্য করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বলেন, ‘এই বিভাগকে উন্নত করতে বিভাগের সকল সংসদ সদস্য একযোগে কাজ করছেন। ঢাকাস্থ ময়মনসিংহ সমিতির সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভাগের উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দুর করতে হবে। সকলে মিলে কাজ করলে সকলের আশাই পুরণ হবে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেত্রকোনার বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাতে বিদেশিরাও সেখানে আসতে পারেন।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ঈদের আগেই শিশুপার্ক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা সম্ভব হবে। আগামীবছর এমন সংবর্ধনার আগেই বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
রবিবার দুপুরে নগরীর আকুয়া দক্ষিণপাড়ায় একটি রিসোর্টে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত মহানগরীতে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকের এই শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে একটি উন্নততর বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চান। তিনি একটি প্ল্যান নিয়ে এসেছেন। যে প্ল্যানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার মান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে যারা বঞ্চিত অবস্থায় আছেন তাদেরকে তুলে নিয়ে আসতে চান। এজন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা দরকার।’ তিনি বলেন, ‘তোমরাই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, তোমরাই পারবে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে।’

সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ, মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবলু, ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বিমানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে ৩৫টি বিমান কিনলাম এজন্য অনেকে বলছেন, বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার দরকার কি? এই বিমানগুলো আসতে অন্তত দশ বছর সময় লাগবে। এই চিন্তাটা কেউ করেন না। যারা বিরোধিতা করার, তারা বিরোধিতা করছে। ২০৩১ সাল থেকে একটি একটি করে বিমান আসতে শুরু করবে আর ২০৩৬-৩৭ সালে এসে পৌছবে। এখন যে বিমানগুলো আছে সেগুলো অচল হয়ে যাবে। তখন কীভাবে চলবে বাংলাদেশ। এই চিন্তা ফ্যাসিস্ট সরকারেরও ছিল না, এখনও যারা বিরোধিতা করছে তারাও করে না। আমাদের ছেলেমেয়েরা যেভাবে উন্নত হচ্ছে তখন এদেশে বিমান থাকবে দুইশোর বেশি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ প্রতিপাদ্যের কথা উল্লেখ করে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর বৃহত্তর ময়মনসিংহে এই উল্লাস স্থিমিত ও স্থগিত ছিল। কোন ধরণের উল্লাস ছিল না, পড়াশোনা ছিল না। বর্তমান সরকার আসার পূর্বে সবকিছু যেন অস্বচ্ছ ছিল। আজকে স্বচ্ছতার জন্য, সকল কিছু পাওয়ার জন্য, বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য, ঐতিহ্যবাহী বিভাগকে উন্নত করার জন্য সরকার সব ধরণের কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মেধাবী শিক্ষার্থীরা জানে আগামী বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চায় তারা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলতে হবে। কোন ধরণের বিশৃঙ্খলাকারীকে প্রশ্রয় দেয়া চলবে না।’ সকলের প্রত্যাশা ময়মনসিংহের ত্রিশালে যেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়, সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। এখন থেকেই একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যে পরিবেশ থাকবে মাদকমুক্ত। ছেলেমেয়েরা শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায় অনুরাগী হয়ে তাদের ভবিষৎকে গড়তে হবে, শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।







