ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর কড়ইতলায় মক্তবে পল্লী বিদ্যুতের আর্থিংয়ের তারে জড়িয়ে দেড় বছরের শিশু মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় ডিজিএমসহ ৪ কর্মীকে আধা ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে ডিজিএম তদন্ত কমিটি করে বিচারের আশ্বাস দিয়ে ৪ কর্মী নিয়ে মক্তব থেকে বের হলে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারপিট করে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমসহ কর্মীরা ধান ক্ষেত দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। সে সময় পুলিশ উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে পড়ে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭ টার দিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২ টার দিকে ডিজিএমসহ ৪ পল্লীতের কর্মী ঘটনা স্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা তাদেরকে আধা ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

নিহত শিশুর পিতার নাম রাজিব মোল্লা। তার বাড়ি গফরগাঁও উপজেলায়। নানার বাড়িতে শিশুকে রেখে স্বামী স্ত্রী গাজীপুরে পোশাক কারখানার কাজ করেন। নিহত শিশুর নানা আব্দুর রহমান ক্বারী জানান, মক্তব্যের পল্লী বিদ্যুতের মিটার নষ্ট থাকায় স্থানীয় রফিকুল ইসলামকে মিটারটি মেরামত করে দেয়ার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়। রফিক পল্লী বিদ্যুতের মিটারটি মেরামত করার সময় আর্থিং তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মিটারটি মেরামত করে দেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭ টার দিকে বাড়ির সাথে মক্তবে অন্যান্য শিশুদের সাথে যায় মরিয়ম। খেলার ছলে শিশু মরিয়ম মিটারের আর্থিং তারে হাত দিয়ে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন তিনি। পল্লী বিদ্যুতের দালালের কারনে নাতীর মৃত্যু হয়েছে। নাতী হত্যার বিচার চান তিনি।
ফুলবাড়ীয়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নিশীথ কুমার কর্মকার জানান, উত্তেজিত জনতার দাবী মিটার সংযোগ ভুল করে দেয়া হয়েছে। মিটার সুযোগটি ১০ দিন আগে দেয়া হয়েছিল। আর্থিং তারে জড়িয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আছিম জোনাল অফিসের এজিএম শফিক আহামেদকে প্রধান করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদেন দাখিল করবেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) রাশেদুল হাসানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।



-400x300.jpg&w=3840&q=75)



