ময়মনসিংহের পৃথক দুই উপজেলায় এক দিনে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নান্দাইলে ছোট ভাইকে বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাত বছর বয়সী এক শিশু। অন্যদিকে গৌরীপুরে খেলাধুলার একপর্যায়ে পুকুরে নেমে পানিতে ডুবে চাচাতো দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নান্দাইলের চরলক্ষ্মীদিয়া বালুচর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো ওই গ্রামের শমশের আলীর মেয়ে শরীফা খাতুন (৭) ও ছেলে মাহমুদুল হাসান (৫)।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবার বেগুনক্ষেত দেখে বাড়ি ফেরার পথে অসাবধানতাবশত মাহমুদুল পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। ছোট ভাইকে ডুবতে দেখে বড় বোন শরীফা তাকে বাঁচানোর জন্য পুকুরে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাঁতার না জানায় দু’জনই পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা অন্য শিশুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পরিবারের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে একই দিন বিকেলে গৌরীপুরের ডৌহাখলা ইউনিয়নের তাঁতকুড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচাতো দুই বোন টুনি মনি (৬) ও মোমেনা খাতুনের (৫) মৃত্যু হয়। টুনি মনি তাঁতকুড়া পূর্বপাড়ার আব্দুল জলিলের মেয়ে এবং মোমেনা খাতুন ফারুক মিয়ার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলতে গিয়ে শরীরে কাদাপানি লেগে গেলে পাশের একটি পুকুরে ধুতে নামে তারা। একপর্যায়ে দু’জনই পানিতে ডুবে যায়। সন্ধ্যায় পুকুরের পানিতে মোমেনার লাশ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা জাল ফেলে টুনি মনির লাশও উদ্ধার করেন।
গৌরীপুর মানব কল্যাণ যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি রুহুল আমিন মণ্ডল জানান, দুপুর থেকেই দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। সন্ধ্যায় মোমেনার লাশ পানিতে ভেসে ওঠে। পরে জাল ফেলে টুনি মনির লাশ উদ্ধার করা হয়।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পানিতে ডুবে মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বর্ষা মৌসুমে পুকুর, খাল-বিল ও জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরো সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।







