টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) এলাকার অধিকাংশ সড়ক ও নিচু এলাকা তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনজীবনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিপর্যয় আর অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সড়কের জলাবদ্ধ পানিতে নেমে কর্মীদের সঙ্গে পানি নিস্কাশনে কাজ করছেন মসিক প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত টানা সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এটি চলতি বছরে জেলায় সর্বোচ্চ।’ এ কারণেই নগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জানতে চাইলে পানি নিস্কাশনে মাঠে তৎপর মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, বহুতল ভবন মালিকদের ময়লা ও আবর্জনা ড্রেনে ফেলা, বিগত সময়ের অপরিকল্পিত ডেনেজ ব্যবস্থা, অনেকস্থানে ড্রেন না থাকা এবং ভারি বর্ষণের কারণে সাময়িক এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পানি নিস্কাশনে আমিসহ কর্মী বাহিনী মাঠে কাজ করছি। ইতিমধ্যে অনেকস্থানের পানি নেমে গেছে। তবে কিছু কিছু স্থানে ড্রেনেজ বা নিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি জমে আছে, সেগুলোও নিস্কাশনে প্রচেষ্টা চলমান।
তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র একশ দিনে নগরীর পানি নিস্কাশনের জন্য আকুয়া খালসহ বেশ কয়েকটি খাল পরিস্কার করে পানি প্রবাহ তৈরি করা হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, গভীর ভোররাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হাঁটু সমান পানির নিচে। ড্রেন উপচে নোংরা পানি রাস্তায় মিশে যাওয়ায় অনেক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে স্কুল ও অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে চরপাড়া এলাকায় হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন গুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

নগরীর চরপাড়া মোড়ে ভুক্তভোগী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা পার হতে আমার ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালে পানি ঢুকে পড়ায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।’
ভুক্তভোগীরা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শহরের খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়ন এ জলাবদ্ধতার মূল কারণ।
সানকিপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, ‘ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় পানিপ্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও আমরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ৬২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২২ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মাত্র ৫৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে মসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিঞা বাসস’কে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে পানি নিস্কাশনে নগরীর খালগুলো পর্যাপ্ত নয়। তবে নগরীর খালগুলোর সঙ্গে নদের সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে, এটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত পানি নিস্কাশন হয়ে যাবে।





