২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুলিশের গুলিতে তিন তরুণ নিহত হওয়ার দুই বছরও মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছে।
২০২৪ সালের ২০ জুলাই গৌরীপুর-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়া বাজার এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হন বহু আন্দোলনকারী। আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. রাকিব (১৯), মো. বিপ্লব (১৯) ও মো. জুবায়ের (২১)।
সেদিন আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।
ঘটনার পর নিহত তিন তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, গৌরীপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহাসহ মোট ৭১১ জনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত পৃথক দুটি মামলাকে গৌরীপুর থানায় দায়ের হওয়া আগের মামলার সঙ্গে একীভূত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এতসব আইনি পদক্ষেপের পরও দুই বছর হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি কিংবা অভিযোগপত্র দাখিলের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে শুরুতে ব্যাপক আলোচনা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সামনে সংঘটিত এমন একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তাহলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে কবে? জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো তিন তরুণের রক্তের বিচার আজও অধরাই রয়ে গেছে—এমন মন্তব্যও করছেন অনেকে।







