ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় কংস নদীর ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি ধ্বসে পড়ায় তারাকান্দা-ধোবাউড়া সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে| এতে দুই পাড়ের হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন|
আজ রবিবার (৭ জুন) ভোর ৪টার দিকে একটি বালুবোঝাই ট্রাক ব্রিজে ওঠার পরপরই ব্রিজটি বিকট শব্দে ধ্বসে পড়ে নদীতে দেবে যায়| তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত বা আহত হয়নি|
.jpeg)
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল| ভারী যান চলাচল এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে| ভোরে বালুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজ অতিক্রম করার সময় এর একটি অংশ ভেঙে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়| এতে আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়|
কংস নদীর ওপর নির্মিত এই বেইলি ব্রিজটি ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল| প্রতিদিন বাস, ট্রাক, শত শত মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপসহ ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী এই সড়ক ব্যবহার করতেন| দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটির স্টীলের পাত খুলে ও ভেঙে যাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কার বা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শেষ অবধি ব্রিজটি ধ্বসে পড়ে|

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, “ব্রিজটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হয়েছিল| কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি| এর ফলেই আজ পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে|”
আরেক বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ বলেন, “ব্রিজ ধসের পর অনেক যাত্রীকে যানবাহন থেকে নেমে পায়ে হেঁটে নদী পার হতে হচ্ছে| মালামাল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে| জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে|”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন| দ্রুত একটি অস্থায়ী সেতু বা পারাপারের ব্যবস্থা না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে|”
ব্রিজটি ধসে পড়ার ফলে ধোবাউড়া ও তারাকান্দার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে| জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে|
এদিকে ব্রিজ ধ্বসের খবর পেয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন| ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি| প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা কাজ করছেন| ব্রিজটি মেরামত অথবা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে| প্রায় ১০ বছর আগেই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল|”
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত নৌকা বা অস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে পারাপারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে| পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নতুন স্থায়ী সেতু নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে|
এ ঘটনায় এলাকায় চরম জনদুর্ভোগ বিরাজ করছে| স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন|





