ময়মনসিংহের তারাকান্দায় ফুডটেক বাংলাদেশের অ্যাকুয়াকালচার সেন্টার অব এক্সেলেন্স (সিওই) উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) উদ্বোধন হওয়া এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশে প্রযুক্তিনির্ভর, টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মাছ চাষ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কানাক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মাছচাষি সম্প্রদায়ের প্রায় ২০০ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ভিত্তিক মাছ চাষে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫০ লাখ ২০ হাজার টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের চাষ থেকে। তবে মাছ ও মাছজাত পণ্যের রপ্তানি দেশের মোট রপ্তানি আয়ের মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
আয়োজকরা জানান ২০২২ সালে চালু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি) কর্মসূচি ফুডটেকবাংলাদেশ বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহ-অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। লারিভ ইন্টারন্যাশনাল এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্স যৌথভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। এ উদ্যোগে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি হস্তান্তর, কৃষক প্রশিক্ষণ, বাণিজ্যিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং বাজারসংযোগ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, ফুডটেকবাংলাদেশ সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ। তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আস্থা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সেন্টার অব এক্সেলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কানাক বলেন, সীমিত জমিতে উচ্চ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য। তিনি বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে দেশের মৎস্য খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
অনুষ্ঠানে লারিভ ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার রজিয়ের বেকার এবং ফিশটেক (বিডি) লিমিটেডের গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন। তাঁরা ইন-পন্ড রেসওয়ে সিস্টেম (আইপিআরএস) এবং রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস) প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
পরে অংশগ্রহণকারীরা কেন্দ্রের বিভিন্ন আধুনিক স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ফিশটেক (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তারিক সারকারের নেতৃত্বে তারা আরএএস-সক্ষম পুকুর ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন।






