নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফসলি মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বন্যহাতির আক্রমণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে। প্রতিবছরই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে নেমে আসা হাতির দল বিকাল বা সন্ধ্যার পর সীমান্তের ধানখেতে প্রবেশ করে ফসল নষ্ট করছে এবং স্থানীয় বসতবাড়িতেও ভাঙচুর চালাচ্ছে। এতে আদিবাসী ও বাঙালি কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, রাত জেগে মশাল জ্বালানো, পটকা ফোটানো ও ঘণ্টা বাজিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হাতির আক্রমণে প্রতিবছর শত শত মন ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিছু দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
এ পরিস্থিতিতে বন্যহাতির আক্রমণরোধে উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি নিজ অর্থায়নে দুই ইউনিয়নের ৩০টি পরিবারে ইতোমধ্যে টর্চলাইট ও হ্যান্ডমাইক বিতরণ করেছেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় স্ট্রিট লাইট স্থাপনের মাধ্যমে হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ২৪ ও ২৫ মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর, বাদামবাড়ি, দাহাপাড়া, ফান্দা, উত্তর বারোমারি ও গোপালপুর এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর, আড়াপাড়া, মাধুপাড়া ও জগৎকুড়া গ্রাম পরিদর্শন করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাজার ও চায়ের দোকানগুলোতে এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এলাকাবাসীর অনেকে বলেন, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় এবং এটি বাস্তবায়িত হলে ফসল ও জানমাল রক্ষা পাবে।
আদিবাসী নেতা ড. অঞ্জন চিচাম বলেন, প্রতিবছরই হাতির আক্রমণে সীমান্ত এলাকার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্ট্রিট লাইট স্থাপনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব কমে আসবে এবং কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষিত হবে।





