ময়মনসিংহে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ব্যানার ও পোস্টার তৈরির অভিযোগে নগরীর ছোটবাজার এলাকার ‘সবুজ প্রাঙ্গণ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে মালিক মো. সবুজ রহমান আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘সবুজ প্রাঙ্গণ’ নামের প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির আশপাশে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। এর আগে রোববার দিবাগত রাত ১১টা থেকে সবুজ প্রাঙ্গণের সামনে অবস্থান নেয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সদস্যরা।
ময়মনসিংহ প্রেস মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফারুক খান পাঠান বলেন, ‘শুনেছি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানার ও পোস্টার ওই প্রতিষ্ঠানটিতে তৈরি হচ্ছিল। এমন অভিযোগের পর তালাবদ্ধ দোকানের সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। তবে পুলিশ আসার আগেই দোকান মালিক প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ করে চলে যান। এ ঘটনায় প্রেস মালিক সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি আইনবিরোধী কাজ।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ‘সবুজ প্রাঙ্গণে’ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও পোস্টার তৈরির বিষয়টি গোয়েন্দা সদস্যরা জানতে পারেন। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এ কারণে রোববার রাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিবিরুল ইসলাম জানান, ‘সবুজ প্রাঙ্গণ’ বর্তমানে তালাবদ্ধ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, সবুজ প্রাঙ্গণের মালিক মো. সবুজ রহমান দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য ব্যানার তৈরি করে সরবরাহ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ব্যানার ব্যবহার করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সরকারবিরোধী মিছিল করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সবুজ রহমানের আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রয়েছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আওয়ামীপন্থি সাংস্কৃতিক সংগঠক কাজল কোরাইশির শ্যালক বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কাজল কোরাইশি বিএনপি নেতাদের মাধ্যমে পুলিশের কাছে তদবির করছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে কাজল কোরাইশি বলেন, ‘ঘটনার আংশিক সত্যতা রয়েছে। মূলত পরিচিত এক ব্যক্তি ব্যানার তৈরির জন্য এসেছিলেন। কর্মচারী সেটি গ্রহণ করে কম্পোজও করেছিলেন। তবে বিষয়টি জানতে পেরে সবুজ কাজটি বন্ধ করে দেন। এখন ভয়ে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কম্পিউটারে আওয়ামী লীগের আগের সময়ের অনেক কাজের ডকুমেন্ট রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো কাজ আমরা করি না।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।’






