বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ সময়ে মিকেল মেরিনোর জয়সূচক গোলে শেষ চারের টিকিট কাটে স্প্যানিশরা।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে স্পেন আর বেলজিয়াম। দাপুটে ফুটবল খেলে বেরজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটল স্পেন।

পুরো ম্যাচেই পজেশন ও আক্রমণে আধিপত্য করে স্পেন। ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য তাদের ১৭ শটের আটটি লক্ষ্যে ছিল, আর বেলজিয়াম পাঁচ শট নিয়ে কেবল দুটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে।
১৬ বছর পর, আবার বিশ্বকাপের শেষ চারে উঠল স্প্যানিশরা। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের পরের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। আর গত দুই আসরেই তাদের পথচলা শেষ হয় শেষ ষোলোয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশরা।
প্রত্যাশিতভাবেই শুরু থেকে বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে খেলতে থাকে স্পেন। যদিও আক্রমণে তেমন আহামরি কিছু করতে পারছিল না তারা। মিডফিল্ডে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিয়ন্ত্রণে ধীরে ধীরে ডান দিক দিয়ে লামিনে ইয়ামাল এবং বাম দিক দিয়ে উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। ছোট ছোট পাস আর বিল্ডআপ ফুটবল খেলে বেলজিয়ামের ডিফেন্সকে চাপে রাখে লা রোহারা।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে সেই চাপের ফল পায় স্পেন। ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে তোলে তারা। এরপর বক্সের ভেতরে নেওয়া প্রথম শট আটকে দেন গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়া। তবে বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি তিনি। ফিরতি বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান ফাবিয়ান রুইজ। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
গোল হজমের পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ডান দিক দিয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করে তারা। প্রথমার্ধেই সসমতাও খুঁজে নেয় বেলজিয়াম। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তান্যের ক্রস বক্সে ঢুকে হেডে বল জালে জড়ান চার্লস ডি কেটেলারে। টানা ছয় ম্যাচ পর এই প্রথম কোনো গোল হজম করে স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেন বল দখলে রেখে ধীরে ধীরে আক্রমণ সাজায়। মাঝমাঠ থেকে বিল্ডআপ করে কখনো বাম, কখনো ডান দিক দিয়ে আক্রমণ চালায়। অন্যদিকে, বেলজিয়াম চেষ্টা করে দ্রুত ট্রানজিশন আর লং বল খেলতে।
ম্যাচের বড় টার্নিং পয়েন্ট আসে ৭১তম মিনিটে। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোয়া। তার জায়গায় নামেন সেনে লামেন্স। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে চাপ আরও বাড়ায় স্পেন। একের পর এক আক্রমণে বেলজিয়ামের ডিফেন্স ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।
অবশেষে ৮৮তম মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। বক্সের ভেতরে নেওয়া শট ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি বদলি গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে কাছ থেকে গোল করেন মিকেল মেরিনো। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
শেষ সময়ে বেলজিয়াম মরিয়া হয়ে ওঠে। লং বল, ক্রস, বক্সে চাপ সবই চেষ্টা করে তারা। তবে স্পেনের ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি তারা। স্পেনের ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি ও লাপোর্তে দারুণভাবে সব সামলে নেয়।






