তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি বলেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা অপূরণীয় ক্ষতি, আর্থিক সহযোগিতা বা অন্য কোন কিছুর বিনিময়ে এটি পূরন করা সম্ভব নয়| তবে সড়কে জনসাধারণের চলাচলে সচেতনতা বাড়লে দুর্ঘটনা কমে আসবে|

আজ (শুক্রবার) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন| তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের এটা কোনো আনন্দময় অনুষ্ঠান নয়, এটা একটি মানবিক অনুষ্ঠান| আজকে সরকার চেক বিতরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আংশিক বা কিছু সহযোগিতা করছে| কিন্তু হতাহত পরিবারের যে অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই আমরা বা কেউই পুরণ করে দিতে পারবো না| তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীতেই গুরুতর সমস্যা| বাংলাদেশে এই সমস্যাটা দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে| আমরা দেখছি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি দুর্ঘটনায় নিহত হন| অথবা দুর্ঘটনায় পরিবারের প্রধান ব্যক্তি এমনভাবে আহত হন যে, তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে| কাজেই সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে| সরকার হতাহতদের পরিবারকে সহযোগিতা করবে কিন্তু আমাদের নিজেদেরকে সচেতন থাকা উচিত|

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সবসময় কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করি| আমরা যদি কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাই এবং নিজেরা কোনো উদ্যোগ না নিই তবে সর্বক্ষেত্রে কোনো সুফল বয়ে আনবে না| আমরা সকল বিষয়ে যদি সচেতন না হই, নিজেরা যদি সাবধান থাকি বিশেষ করে রাস্তা পারাপারের সময় তবেই দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে পারবো|

তিনি আরো বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে ব্রীজের পাশে ফুটপাত দখল করে পণ্য বেজাকেনার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকা উচিত| মহাসড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে এমনস্থানে দোকানপাট বসানোর স্থান নয়| ঠিক একই ভাবে রাস্তা পারাপারের সময় করণীয় বিষয়ে স্কুলে পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে|’ ছোটদেরকে স্কুলে শিক্ষা দেয়া যাবে কিন্তু বড়দের মাঝে কীভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা যায় সেই ব্যাপারেও আমাদেরকে ভাবতে হবে| যোগ করেন তিনি|

তিনি বলেন, আজকে যাদেরকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই প্রাপ্ত বয়স্ক| কাজেই এটা বুঝা যায় যে, প্রাপ্ত বয়স্কদের সচেতন হওয়া জরুরি| যানবাহনের মালিক, চালক ও পথচারিদেরকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে| চালককে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে| মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপারের সময় বেশি দুর্ঘটনা ঘটে| তখন দোষটা চালকের ওপর বত্যায়| এদিকেও সচেতনতা দরকার| অনেক সময় দেখা যায়, চালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলছে, সীট বেল্ট পড়ে না| এই সামগ্রীক বিষয়ে সবাই সচেতন থাকলে দুর্ঘটনা কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি|

ময়মনসিংহ জেলায় সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ময়মনসিংহ সার্কেল যৌথভাবে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে| অনুষ্ঠানে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড ময়মনসিংহ সার্কেলের অধিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ টি পরিবার এবং আহতদের ১৬ টি পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়| সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ব্যক্তির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ টাকা এবং আহতদের শ্রেণীভেদ অনুসারে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে|
সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, সড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে| জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান রাস্তায় চালক ও পথচারীদের আরো সচেতনতার পরামর্শ দেন| পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান সড়ক পথে সতর্কতার সাথে চলাচলের পরার্মশ দেন| নির্বাহী ম্যািিজস্ট্রেট সৈয়দ শাহনেওয়াজ মোর্শেদ অপুর সঞ্চালণায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জিলা মটর মালিক সমিতির মহাসচিব রতন আকন্দ, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলাম| ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে তারাকান্দা উপজেলার স্কুল শিক্ষক গোলাম মাওলা সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্কুল পড়ুয়া মৃত কন্যা এবং আহত পুত্রের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন|





-400x300.jpg&w=3840&q=75)


