ময়মনসিংহর গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দুইটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হয়ে বিকাল পৌনে ৫টায় সমাপ্তি করেন। পৌনে ৮ ঘন্টার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেন বিকাল ৫টায় গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যায়।

এদিকে দুপুর ১ টা ২৫ মিনিটে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধারে ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে দুইটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেন রিলিফ কর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৫টায় দিকে জামালপুর কমিউটার ট্রেনের লাইনচ্যুত বগিগুলো নিয়ে রিলিফ ট্রেনটি ময়মনসিংহ উদ্দেশ্যে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও স্টেশনের পয়েন্ট সেকশনে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে যাত্রাবিরতির লক্ষ্যে স্টেশনে প্রবেশের প্রাক্কালে তুলনামূলক ট্রেনের গতি কম থাকায় এতে কেউ হতাহত হয়নি।

ট্রেনের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস কাওরাইদ ষ্টেশনে, মহুয়া ট্রেন শ্রীপুর ষ্টেশনে আটকে আছে। বৈরী আবহাওয়া মধ্যে ট্রেনে আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে শিকার হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে কন্ট্রোলের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তনগর ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, হাওড় এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস এবং জামালপুর এক্সপ্রেস এই চারটি ট্রেনকে বিকল্প পথে ঢাকা থেকে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-গৌরীপুর হয়ে ময়মনসিংহ রুটে চালানো হয়। এছাড়া তিস্তা এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, মহুয়া কমিউটার এবং বলাকা কমিউটার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

ময়মনসিংহ স্টেশনের স্টেশন সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন জানান, খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ রিলিফ কল করা হয়। কেওয়াটখালি লোকোশেড থেকে রেলওয়ের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও পৃথক আরেকটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়।
বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, ঢাকা ও ময়মনসিংহের কেওয়াটখালি লোকোশেড থেকে ২টি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ চালানোর প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সমর্থ হয়। এ ঘটনায় ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা এই দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে কাজ করে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করবে।







