বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে। মঙ্গলবার ডালাসে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্লিং হালান্ডের করা এক নাটকীয় জয়সূচক গোলে বিদায় নিতে হলো আইভরি কোস্টকে, যারা এর আগে এক চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফিরে দারুণ লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল।
ম্যাচের অধিকাংশ সময় জুড়ে মাঠে প্রায় অদৃশ্য হয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার হালান্ড ঠিক প্রয়োজনের মুহূর্তেই স্বরূপে আবির্ভূত হন। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে নরওয়েকে পরবর্তী রাউন্ডে নিয়ে যান তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৫ জুলাই নিউইয়র্কে শক্তিশালী ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে।

এর আগে, ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল বেশ রক্ষণাত্মক ও কৌশলগত; যেখানে কোনো দলই অতিরিক্ত খেলোয়াড় নিয়ে আক্রমণে ওঠার ঝুঁকি নিতে চায়নি। শুরুর দিকে নরওয়ে অবশ্য কিছু ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। রাইট-ব্যাক পেডারসেনের বাড়ানো ক্রস থেকে হালান্ড বক্সে সুযোগ পেলেও তার নেওয়া হেডে আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফাফানাকে পরাস্ত করার মতো যথেষ্ট গতি ছিল না। আইভরি কোস্টও ডান প্রান্ত দিয়ে নিকোলাস পেপে এবং ক্রিস্ট ইনাও ওলাইয়ের ওপর ভর করে খেলায় ফেরার চেষ্টা চালালেও মাঠের শেষ তৃতীয়াংশে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলে।
ম্যাচের ৪০তম মিনিটে ডেডলক বা অচলাবস্থা ভাঙেন আন্তোনিও নুসা। বাম প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে এক চমৎকার ও নিখুঁত বাঁকানো শটে বল দূরপোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে জালে জড়ান তিনি। এই গোলের পেছনে বড় অবদান ছিল লেফট-ব্যাক ডেভিড মোলার উলফের বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ মুভমেন্টের, যার একটি রান আইভরি কোস্টের ডিফেন্ডারকে অন্যদিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে হালান্ড এবং আলেকজান্ডার সরলথ দুজনেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি নরওয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। আক্রমণভাগে ধার বাড়াতে কোচ এমে ফায়ে কৌশল পরিবর্তন করে দলটিকে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে সাজান এবং উইঙ্গার পেপে ও ইয়ান দিওমান্দের মাঝে ‘নাম্বার টেন’ পজিশনে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামান আমাদ দিয়ালোকে। কোচের এই চাল মাঠেই দারুণভাবে সফল হয় ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে। ডান প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে নিচু শটে গোলরক্ষক ন্যাল্যান্ডকে পরাস্ত করেন দিয়ালো, যা চলতি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে জায়গা করে নেবে।
এরপর ওডেগার্ডের একটি ফ্রি-কিক আইভরি কোস্টের ডি-বক্সে গোলমালের সৃষ্টি করলে নরওয়ে প্রায় দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যাচ্ছিল। অন্যদিকে, আইভরি কোস্টের পেপের একটি বিপজ্জনক শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন নরওয়েজিয়ান কিপার ন্যাল্যান্ড, আর এর মাঝে গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে ম্যাচ সমতায় রাখেন বদলি খেলোয়াড় দিয়ালো। ম্যাচ যখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় নরওয়ে।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে অস্কার বব এবং প্যাট্রিক বার্গের সম্মিলিত এক চমৎকার আক্রমণ থেকে বক্সে নিখুঁত এক ক্রস আসে হালান্ডের উদ্দেশ্যে, এবার আর কোনো ভুল না করে কাছ থেকে বল জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি টুর্নামেন্টে হালান্ডের পঞ্চম গোল এবং মাত্র ৫৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এটি তার ৬০তম গোল।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত আরও ৭ মিনিট খেলা হলে সমতায় ফিরতে অল-আউট আক্রমণে যায় আইভরি কোস্ট। যোগ করা সময়ে দিয়ালোর নেওয়া একটি জোরালো ফ্রি-কিক চমৎকার দক্ষতায় সেভ করেন ন্যাল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত আইভরি কোস্টের সব আক্রমণ রুখে দিয়ে ২-১ গোলের জয় নিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।





