যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গঠন, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকালে ময়মনসিংহ অফিসার্স ক্লাবে শহরের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ ফুটবল মাঠ দি স্পোর্টিভা (The Sportiva) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’সহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের ডিভাইসের প্রতি আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার কার্যক্রমের প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবার ১০টি ইভেন্টে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করা হবে। আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের দিকে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির আদলে খাল খনন কর্মসূচিও বর্তমান সরকার শুরু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং তীব্র গরম থেকে রক্ষা পেতে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।ময়মনসিংহের ক্রীড়া অবকাঠামো প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশের ২২টি জেলায় থাকা সুইমিং পুলগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ময়মনসিংহের সুইমিং পুলের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পানিতে দুর্ঘটনা থেকে তাদের রক্ষা করা সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক জেলায় নতুন অবকাঠামো তৈরি না করে বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আট বিঘা জমি না হলেও ছোট পরিসরের উপযুক্ত জায়গাকে মাঠ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে এটাই সরকারের লক্ষ্য।

ময়মনসিংহে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৩৫ একর জায়গাকেও ক্রীড়া কার্যক্রমে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকের সর্বোচ্চ আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে পদকের জন্য লড়াই করতে সরকার কাজ করছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের অবহেলা না করে তাদের ক্রীড়াক্ষেত্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্য থেকেও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে পদক জয় করার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারা ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছর পর দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ, ৬৪টি জেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো, প্রায় ৫০৩টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বক্তব্য শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক টার্ফ ফুটবল মাঠ দি স্পোর্টিভার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবুল। ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন, দি স্পোর্টিভার ম্যানেজিং ডাইরেক্টর এ কে এম ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম।
আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, সিটি প্রশাসক ময়মনসিংহের উন্নয়নের যে দাবি জানিয়েছেন আমি তার সাথে একমত। তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলেও খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলছেন প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ হবে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশ্য বলেন, আমরা ময়মনসিংহে ৩৫ টি টার্ফ করতে চাই। মাঠ তৈরির জন্য দুটি রোলার চাই। ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টের দোসর রওশন এরশাদ ময়মনসিংহের জন্য কিছুই করেনি। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ময়মনসিংহের উন্নয়নে প্রতিমন্ত্রীকে সহায়তা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু এমপি বলেন, টার্ফ সম্পর্কে সবাই অবগত নন। তবে নতুনদের জন্য এটা সুখবর। তিনি বলেন, ময়মনসিংহের সার্কিট হাউস মাঠ ছাড়া আর কোনো খেলার মাঠ নেই। মাদক থেকে যুব সমাজকে দুরে সরাতে খেলাধুলা ও সামাজিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। মুক্তাগাছায় জনগণ মাদকাসক্তদের ধরে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ময়মনসিংহে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ দিয়ে গেছেন। এরপর ময়মনসিংহের আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে ময়মনসিংহের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার দাবিও জানান তিনি।
ফকরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, সারাদেশে খেলাধুলার মানোন্নয়ন হওয়ার দৃষ্টান্ত হলো এই স্পোর্টিভা।
লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু এমপি বলেন, আমাদের ময়মনসিংহের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক উন্নয়নের জন্য নৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। এজন্য নৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঈশ্বরগঞ্জের মেয়েদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে ভুমিকা রাখতে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
সিটি প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্ম ৮ বছর আগে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া ময়মনসিংহে আর কোনো কিছু হয়নি। ১২ টি জায়গা নির্বাচন করেছি জেলা প্রশাসন সেই জমি বরাদ্দ দিলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে খেলাধুলার ব্যবস্থা করবো। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সরকারের উন্নয়নের কথা বলে ভোট নিতে চাই। এজন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি ও সহায়তা কামনা করছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, ফুটবলপ্রেমী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালে সাফ গোল্ডকাপ (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ) স্বর্ণপদক জয়ী দলের সাথে প্রতিমন্ত্রী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন।
পরে, টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালে সাফ গোল্ডকাপ (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ) স্বর্ণপদক জয়ী দলের সাথে প্রতিমন্ত্রী প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং সিটি প্রশাসক অংশ নেন।







