ম্যাচের শুরুতে প্রবল আক্রমণাত্মক পর্তুগালের দেখা মিলল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ গোলে এগিয়েও গেল তারা। কিন্তু সময় গড়াতে পর্তুগিজদের পায়ে যেন নেমে এল রাজ্যের ক্লান্তি, আক্রমণের ধারও কমল। শেষ পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা করেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা আর ভাঙতে পারলেন না কঙ্গোর রক্ষণব্যূহ।
উল্টো মাঝে ইতিহাস গড়ে পর্তুগালের জালে বল জড়িয়ে সমতা ফেরায় কঙ্গো। শেষ পর্যন্ত সেই সমতা ধরে রেখে পর্তুগালকে রুখে দিল আফ্রিকার দেশটি। এই ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোলের পাশাপাশি প্রথম পয়েন্টের দেখাও পেল ডিআর কঙ্গো।
বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গোর মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। তবে ‘কে’ গ্রুপের এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিট থেকে কঙ্গোর বক্সের আশেপাশে বল নিয়ে খেলছিল পর্তুগাল। তার ঠিক এক মিনিট পরে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ষষ্ঠ মিনিটে বামপ্রান্ত থেকে বক্সের মধ্যে নিখুঁত ক্রস বাড়ান পেদ্রো নেতো। বাতাসে লাফিয়ে উঠে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন জোয়াও নেভেস।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আবারও গোলের বড় সুযোগ তৈরি করেছিল পর্তুগাল। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বামপ্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন নুনো মেন্ডিস। তবে শেষ মুহূর্তে তিনি জোরালো শট নিতে পারেননি, বল আটকে দেন কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-নাজাউ।
১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মাঝে আরও কয়েকবার কঙ্গোর রক্ষণে হানা দিয়েছিল পর্তুগাল। তবে তারা সেভাবে পরিষ্কার কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। কঙ্গোর রক্ষণভাগের কড়া পাহারায় সুযোগ সন্ধানী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও জালের দেখা পাওয়ার মতো কোনো সুযোগ পাননি।
সবকিছু দেখে মনে হচ্ছিল ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধের বিরতিতে যাচ্ছে পর্তুগাল। কিন্তু যোগ করা সময়ে বদলে যায় হিসাব-নিকাশ।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ একটি শট নিয়েছিল কঙ্গো। তবে পর্তুগাল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বল গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। সেই কর্নার থেকে কঙ্গো কিছু করতে পারেনি।
তবে, এর ঠিক পরেই সেটপিস পেয়ে কাজের কাজটা করে তারা। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে পর্তুগালের বক্সে দারুণ ক্রস বাড়ান আর্থার মাসুয়াকু। সেখানে লাফিয়ে উঠে নিখুঁত হেডে বল জালে জড়ান ইওয়ান উইসা। আর এই ঐতিহাসিক গোলের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল উদযাপনে মাতে ডিআর কঙ্গো।




