বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি—এই তিনটি বিষয় আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই, আর বাংলাদেশের বাস্তবতায় সৌরশক্তিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর ও সম্ভাবনাময় জ্বালানির উৎস।

তিনি আজ শনিবার বিকেলে ইন্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহ কেন্দ্র আয়োজিত 'বাংলাদেশে সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা: হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষের ওপর একটি কেস স্টাডি' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় তিনি বলেন, তিনি বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাওর অঞ্চলের বোরো ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ডিজেলনির্ভর সেচ ব্যবস্থার কারণে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা হাওর অঞ্চলে বোরো ধান চাষে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে, যার প্রধান সুফল হলো জ্বালানি খরচ কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সময়মতো সেচ নিশ্চিত করা। সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাবে, ডিজেলের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করবে, কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি কৃষকের লাভজনকতা বৃদ্ধি করবে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।এ অবস্থায় সৌর পাম্প-চালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষির জন্য একটি যুগোপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে উচ্চ স্থাপন খরচ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পর্যাপ্ত আলোর ঘাটতির মতো কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ,আগামী পাঁচ বছরে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি তেলের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেলের জন্য প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে ব্যয় হয়। অথচ আমাদের দেশে বছরের অধিকাংশ সময় পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং একটি পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সৌরশক্তির প্রসারে প্রাথমিক বিনিয়োগ, সহজ অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সৌর পাম্পভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, টেকসই কৃষি এবং মানবিক উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। গবেষণালব্ধ তথ্য ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা গেলে হাওর অঞ্চলের কৃষি আরও লাভজনক, উৎপাদনশীল ও পরিবেশবান্ধব হবে।
তিনি বলেন, "সবুজ জ্বালানিতে বিনিয়োগ মানেই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষির আধুনিকায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিনিয়োগ।"
ময়মনসিংহ আইআইবি কনভেনশন সেন্টারে আইইবি ময়মনসিংহ কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. প্রকৌ. এ. কে. এম আভাপতি এর সভাপতিত্বে ও সম্মানী সম্পাদক প্রকৌ. মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধ্যাপকড. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইইবি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌ. খান মনজুর মোর্শেদ, প্রকৌ. শেখ আল আমিন, প্রকৌ. নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া , প্রকৌ. এটিএম তানভীরুল হাসান । বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন আইইবি, ঢাকার ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেরোয়ার মাওলা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইইবি, ময়মনসিংহ কেন্দ্র চেয়ারম্যান প্রকৌ. এস. এম ইকবাল ।







