ভেঙে পড়া মরিচা ধরা টিনের ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার দশালিয়া গ্রামের ভিক্ষুক ফিরোজা বেগমের স্বপ্ন পূরণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এতে বয়ৃসের ভাড়ে ভারাক্রান্ত অসহায় ফিরোজার মনিল মুখে ফুঠে উঠেছে হাসির ঝিলিক। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য।
জানা যায়, ভিক্ষুক ফিরোজা বেগমের শরীর বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করলেও আশ্রয়টা ছিল অত্যন্ত জরাজীর্ণ। সেটি হলো মরিচা ধরা টিনের ঝাপড়ি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতরে পড়ে পানি। হালকা বাতাসে কেঁপে উঠতো বুক,এই বুঝি উড়িয়ে নিয়ে যাবে আশ্রয়স্থল। এভাবেই লড়াই করে ফিরোজা বেগমের কেটেছে জীবনের শেষ অংশ। এরই মাঝে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে ইউএনও ফাতেমা জান্নাতের প্রচেষ্টায় এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপির সহযোগিতায় আশ্রয় পেলেন ভিক্ষুক ফিরোজা বেগম।
ফিরোজা বেগম নান্দাইল পৌরসভার দশালিয়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর স্ত্রী। প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামী মারা যান। সে থেকেই ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। স্বামীর রেখে যাওয়া এক শতাংশ জায়গার উপর জরাজীর্ণ ঘরেই বসবাস করতেন তিনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ায় নিজে ভিক্ষা করতে না পারায় বিধবা মেয়ে শামসুন্নাহার ভিক্ষা করে মায়ের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এমন অমানবিক পরিবেশে বসবাস করলেও ফিরোজার দুর্দশা খুব একটা কারও নজরে আসেনি। অবশেষে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী এমদাদুল হক বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাতের নজরে আনেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই ফিরোজার বাড়িতে গিয়ে তার জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র পরিদর্শন করেন।
পরে বিষয়টি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপিকে অবহিত করলে তাঁর নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ফিরোজার জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে ঘরটির নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে ফিরোজা বলেন, আমি কোনোদিন ভাবিনি জীবনের এই বয়সে নতুন একটা ঘরে থাকতে পারব। ঘরের ভেতরে পানি পড়ে সব ভিজে যেত। ঝড়-বৃষ্টি এলেই খুব ভয় লাগত। এখন মনে হচ্ছে আল্লাহ আমার দিকে তাকিয়েছেন। যারা আমার জন্য এই ঘরের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে তাদের জন্য দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ফিরোজার বিষয়টি জানার পর আমি তার বাড়িতে গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখি। পরে বিষয়টি মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী স্যারকে অবহিত করি। তাঁর নির্দেশনায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে একটি নতুন ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিরোজার মেয়ে শামসুন্নাহারও একজন বিধবা। চার সন্তান নিয়ে তিনি অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাই তার জন্যও একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি স্বাবলম্বী হয়ে পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এলে আমি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয়। এমন মানবিক কাজ করতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে।







