পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করল বিজেপি। শপথ নিয়েছেন নতুন সরকারের মন্ত্রীরা।
কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আজ শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টা) শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার একটু পর রাজ্যপাল আর এন রবির উপস্থিতিতে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর পর শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁকে অভিবাদন জানান। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও এপিবি আনন্দের।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস বরাবরই ছিল নানা উত্থান-পতনে ভরা—এক সময় কমিউনিস্টদের দীর্ঘ শাসন, এরপর প্রায় ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বিজেপির জয়ের মধ্য দিয়ে। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভা নির্বাচনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জিতেছেন। নিজের নন্দীগ্রামের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
কড়া নিরাপত্তায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মঞ্চে আছেন-বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি, চিরাগ পাসোয়ান, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনবীশ, অগ্নিমিত্রা পাল, মিঠুন চক্রবর্তীসহ কেন্দ্র ও রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা।
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন শুভেন্দু। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর থেকেই তিনি রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রচারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লাগাতার লড়াই, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচনি জয়- এসব বিষয়গুলো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর দাবিকে আরও জোরালো করেছে।
দলীয় সূত্রের খবর, ভবানীপুর থেকে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শুভেন্দুর জয়কে বাংলার রাজনীতির একটি প্রতীকী ও কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির অভ্যন্তরে আরও কিছু নাম নিয়ে আলোচনা ছিল। তাদের মধ্যে আছেন- রাজ্য শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত।
দলের একটি অংশ স্বপন দাশগুপ্তকে একজন বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে দেখে থাকেন। মনে করা হয়, তিনি শাসন ও রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। অন্যদিকে, শমীক ভট্টাচার্যকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে সফলভাবে সংগঠন পরিচালনার কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে।





