ভূ-মধ্যসাগরের ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। দেশটির রাজধানী নিকোশিয়ার একটি আদালত সম্প্রতি সেখানকার বিলাসবহুল একটি বাড়ি জব্দের আদেশ দিয়েছে। ওই বাড়িটির মালিক বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম।
মি. আলমের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নিকোশিয়া জেলা আদালত মি. আলমের ওই বাড়িটি জব্দের আদেশ দিয়েছে বলে সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন বা ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কয়েক মাস পর পাচারের সেই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ থেকে কোন দেশে কী পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে, দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে সেটি তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা শাখা 'বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট' (বিএফআইইউ)। অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত দেড় ডজনের মতো দেশ ও এলাকার নাম পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
সেগুলো হলোু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সাইপ্রাস, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীনের হংকং, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স, ভারত, লুক্সেমবার্গ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যের সাথে সম্পর্কিত একটি স্বশাসিত অঞ্চল আইল অব ম্যান, ব্রিটিশ আইলসের অন্তর্ভুক্ত দ্বীপ জার্সি, ইংলিশ চ্যানেল অঞ্চলের দ্বীপ গার্নসি এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস।
এসব দেশ বা এলাকার সরকার ও প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে অভিযুক্তদের সম্পদ জব্দের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান এবং সাইপ্রাসে অভিযুক্তদের কিছু সম্পদ জব্দও করা হয়েছে।
"তিনটি দেশে কিছু সম্পদ জব্দ হয়েছে। বাকি দেশগুলোতে এখনো যে সম্পদ জব্দ করা হয়নি, সেটার কারণ জব্দ করার পূর্বে সেই দেশকে তো যথাযথভাবে প্রসিডিউর মেনেই সেটা করতে হচ্ছে। অন্য একটি দেশের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, বিষয়টি এমন না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
"তাদের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কোনো বিচ্যুতি হয়েছে কি-না এবং বিচ্যুতির কারণে সম্পদ জব্দ করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি-না, সেটা যাচাই করেই তো তারা জব্দ করবে," বলেন মি. খান।

ছয় মামলায় অগ্রাধিকার
দেশের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় প্রথম ধাপে অভিযুক্ত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন বিশেষ টাস্কফোর্স।
সেই তালিকায় প্রথমদিকেই রয়েছে সাইফুল আলম চৌধুরীর এস আলম গ্রুপ এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর আরামিট গ্রুপের নাম।






