নেপালের ভোটেকোশী নদীতে গত ২৬ আগস্টের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার তৎপরতা জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে নুয়াকোটের আরও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুনরায় চালুর লক্ষ্যে অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।
শক্তি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার নুয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ড এবং তারকেশ্বর-৪ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
শ্রেষ্ঠা আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রসুয়ায় প্রায় ৮৩ শতাংশ এবং নুয়াকোটে প্রায়৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সেবা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে যেখানে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং উপলব্ধ কর্মী ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বন্যার পরপরই মন্ত্রণালয় পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে।
যেসব সম্প্রদায়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ এখনও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে সরকার 'অল্টারনেটিভ এনার্জি প্রমোশন সেন্টার'-এর মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিতরণ করছে। সামাজিক বা কমিউনিটি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ২ কিলোওয়াট পর্যন্ত ক্ষমতার সোলার সিস্টেম প্রদান করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ পরিবারগুলোর মাঝে ব্যক্তিগত সোলার সিস্টেম বিতরণ করা হচ্ছে।
শ্রেষ্ঠা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত ও সেবা দ্রুত ফিরিয়ে আনতে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং অল্টারনেটিভ এনার্জি প্রমোশন সেন্টারের দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে, নুয়াকোটের বিদুরের দেবীঘাটে তাদি নদীর ওপর ৬০ মিটারের একটি অস্থায়ী স্টিল সেতু স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করেছে নেপালী সেনাবাহিনী। ২৬ আগস্টের বন্যায় এখানকার স্থায়ী সেতুটি ভেসে যায়, যার ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতুর উভয় পাশের বিদ্যমান খুঁটিগুলো বা সাপোর্ট ব্যবহার করেই এই অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। তিন দিন আগে সেতু স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং বুধবারের মধ্যে তা শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে এবং নিজস্ব কারিগরি দল দিয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে। সেতু স্থাপনের কাজ শেষ হলে যান চলাচলের জন্য রাস্তাটি খুলে দেওয়ার আগে প্রকৌশলীরা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। সূত্র : দ্যা কাঠমান্ডু পোস্ট।







