পরিবারের দারিদ্র্য মেটাতে ও উন্নত জীবনের আশায় জীবিকার তাগিদে ব্যাংকঋণ ও চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে আট মাস আগে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আল মামুন (৩০)। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভূল আশ্বাসে সেখানে গিয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের দাবানলে প্রাণ হারাতে হলো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই যুবককে। ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা মা ও স্ত্রী। প্রিয়জনের মরদেহটি অন্তত শেষবারের মতো দেখতে আকুল আকুতি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
নিহত আল মামুন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া গ্রামের মৃত আবু কাসেমের ছেলে। তিনি এলাকায় ইলেক্ট্রিকের কাজ করে পরিবার চালাতেন। প্রায় আট মাস আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় ব্যাংক ঋণ ও চড়া সুদে টাকা জোগাড় করে একটি কোম্পানির চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় যান তিনি। তবে কিছুদিন আগে পরিবার জানতে পারে, তাকে যুদ্ধের এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাশিয়া থেকে মামুনের এক সহকর্মীর ফোন আসে তার স্ত্রী মহিমা আক্তারের কাছে। ফোনে জানানো হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন আল মামুন। খবরটি গ্রামে পৌঁছাতেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে একটাই দাবি, দ্রুত কূটনৈতিক পদেক্ষেপ নিয়ে যেন আল মামুনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
এক ছেলে ও এক মেয়েকে রেখে বিদেশে যাওয়া মামুনের শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্ত্রী মহিমা আক্তার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল মামুনের মা রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘এখন আমরা কি নিয়ে বাঁচব। আমার ছেলেকে এনে দাও। আমার একমাত্র সম্বলকে আমি ফেরত চাই।’
এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন স্ত্রী মহিমা আক্তার। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে উনি বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন সবই শেষ হয়ে গেল। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, আর কীভাবে এই সংসার চালাব? আমি শুধু আমার স্বামীর মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চাই।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বাচ্চু জানান, ঘটনাটি শুনেছি। তবে মামুনের নিহতের লাশের ছবি বা ভিডিও কোন বার্তা পাওয়া যায়নি। ফোন কলের মাধ্যমে রাশিয়ায় অবস্থানরত এক লোক বলেছে, মামুন যুদ্ধে মারা গেছে। এতটুকুই জানি।
এ বিষয়ে খারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসনাত মিন্টু জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। মামুন অত্যন্ত ভালো ছেলে ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের মাতম চলছে।







