ময়মনসিংহ নগরীতে ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ, গণমাধ্যমের করনীয় শীর্ষক’ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় নগরীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনে কাজ চলমান বলে জানান ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: রুকুনোজ্জামান রোকন।
আজ সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ক্লাবের চিকিৎসা উপকমিটির আয়োজনে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ক্লাবের চিকিৎসা উপকমিটির আহবায়ক সাংবাদিক নিয়ামুল কবীর সজলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন।
এ সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ডেঙ্গুর খবরে ‘রেডজোন’ শব্দটির ব্যবহার পাঠক সমাজে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আশা করবো গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, নগরীর প্রতিটি বস্তিবাসী এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো । অনেকের ঘরে এখন মশার কয়েল জ্বালানো হয় না। আমি দায়িত্ব নেযার পর বস্তিবাসীর দুর্দশা লাগবে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এজন্য প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশক নিধনে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।
এ সময় জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ টেনে মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করে নগরীতে আর কোন নতুন বাড়ী নির্মাণ হবে না। নতুন বাড়ী করতে হলে অবশ্যই পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও ডেঙ্গু ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ খান। সভায় তিনি বলেন, বয়স্ক, গর্ভবতী, কিডনি, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি। কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এজন্য সচেতনতা সবার জন্য অতিব জরুরী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এইচ কে দেবনাথ, স্বদেশ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দোহা মাসুম ও প্রেসক্লাব সদস্য মীর গোলাম মোস্তফা।
সভায় ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উম্মে হাবীবা মীরা বলেন, ডেঙ্গু স্বমূলে নির্মূল করা যাবে না। তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এজন্য নিজেদের উদ্যোগী হতে হবে। সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য।







