আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন এনেছেন। তিনি এখন পাঁচটি খাবারে সুস্থ শরীরের ভিত্তি গড়ছেন। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে একই রকম ক্ষিপ্র, ফিট এবং ধারাবাহিক আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও বড় পরিবর্তন এনেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজ, স্বাস্থ্যকর এবং পরিমিত খাবারই দীর্ঘদিন ধরে মেসির ফিটনেস ধরে রাখার অন্যতম রহস্য। আর সেই কারণেই বয়স বাড়লেও মাঠে তার পারফরম্যান্সে খুব একটা প্রভাব পড়েনি।
স্পেনের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির ডায়েটিশিয়ান জুলিয়ানো পোসারের মতে পাঁচটি খাবার সুস্থ শরীরের ভিত্তি তৈরি করে। সেগুলো হলো- পানি, অলিভ অয়েল, গোটা শস্য, তাজা ফল এবং তাজা শাকসবজি।
পোসারের মতে, ভালো মানের এবং রাসায়নিকমুক্ত খাবার খাওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, কীটনাশকে দূষিত খাবার শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের প্রাকৃতিক খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করে।
মেসির খাদ্যতালিকায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি ছিল চিনি কমিয়ে দেওয়া। পোসারের মতে, ‘পেশির জন্য চিনি সবচেয়ে ক্ষতিকর খাবারগুলোর একটি।’ তিনি আরও মনে করেন, পরিশোধিত ময়দা জাতীয় খাবারও কম খাওয়া উচিত, কারণ এগুলো হজম করতে শরীরের বেশি সমস্যা হয়। মেসি এখনও মাংস খান, তবে পরিমিত পরিমাণে। কারণ অতিরিক্ত মাংস হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকেই খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আরও সচেতন হন মেসি। তখন থেকেই তিনি দীর্ঘমেয়াদে ফিটনেস ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা অনুসরণ করতে শুরু করেন।
মেসির ডায়েটিশিয়ান ২০১৫ সালে জানিয়েছিলেন, ‘তিনি প্রসেসড ফুড বাদ দিয়েছেন। তার বদলে ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার, শস্য, শাকসবজি, মাছ এবং অলিভ অয়েলকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই পরিবর্তনের ফলে তিনি আরও বেশি তীব্রতায় অনুশীলন করতে পারছেন।’
মেসির দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত জল পানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার খাদ্যাভ্যাসের মূল মন্ত্র হলো নিয়ম মেনে চলা, ভালো মানের খাবার খাওয়া এবং ভারসাম্য বজায় রাখা।
তবে কঠোর নিয়মের মধ্যেও নিজের পছন্দের খাবার পুরোপুরি বাদ দেননি মেসি। দক্ষিণ আমেরিকার জনপ্রিয় পানীয় ইয়েরবা মাতে এখনও তার খুব প্রিয়। এ ছাড়া পাস্তা, মিলানেসা, রোস্ট করা খাবার এবং পিৎজাও তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আমি খুব সাধারণ খাবারই পছন্দ করি।’
মাঝে মধ্যে চকলেট, দুধের মিষ্টি বা আইসক্রিমও খান তিনি। তবে সব কিছুই পরিমিত পরিমাণে। আর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই হয়তো ৩৯ বছর বয়সেও তিনি বিশ্বের সেরা ফুটবলার।







