কোনোভাবেই আটকে রাখা গেল না ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসিকে। বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোরে কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকের ওপর ভর করে আলজেরিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
নিজের ঐতিহাসিক ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে মাঠে নেমে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই এই অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক তুলে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তার ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচটিতে এক স্মরণীয় রাত উপভোগ করলেন। তিনি প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেন।

ছবি: এপি/ইউএনবি
ম্যাচের শুরু থেকে আর্জেন্টিনা খেলা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। পঞ্চম মিনিটেই মেসি একবার বল জালে জড়িয়ে ভেবেছিলেন যে গোল হয়ে গেছে, তবে অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
অবশেষে ম্যাচের ১৭তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে। আলজেরিয়ার অর্ধে মেসির দিকে বল বাড়িয়ে দেন রদ্রিগো ডি পল। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা কিছুটা সামনে এগিয়ে গিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি বুলেট গতিতে জালে জড়ালে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের কিছুই করার ছিল না।
বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে এটি ছিল মেসির ১৪তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং গের্ড মুলারের সমকক্ষ হন।
আর্জেন্টিনা বল দখলে তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ এবং ডি পল মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখায় আলজেরিয়া কোনো সুযোগ তৈরি করতে বেশ সংগ্রাম করছিল।

ছবি: এপি/ইউএনবি
ম্যাচের ৬০তম মিনিটে মেসি ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ম্যাক অ্যালিস্টারের নেওয়া একটি শট জিদানের হাত ফস্কে বেড়িয়ে গেলে ফাঁকায় বল পেয়ে যান মেসি। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে একদম কাছ থেকে বল জালে জড়ান।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫ তে, যা তাকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর সমকক্ষ করে তোলে।
আলজেরিয়া ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ পুরো ম্যাচ জুড়ে আফ্রিকান দলটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে রাখেন।

ছবি: এপি/ইউএনবি
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে মেসি তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। বাম প্রান্তে থাকা নিকো গঞ্জালেসকে পাস দিয়ে তিনি দ্রুত ডি-বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন। গঞ্জালেস ফিরতি পাস দিলে মেসি এক নিচু শটে বল জালের কোণায় পাঠান।
এই তৃতীয় গোলটি বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা ১৬ তে নিয়ে যায় এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে থাকা ক্লোসার পাশে তাকে বসায়।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সাথে ৩৮ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়ে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড নিজের করে নিলেন।





