ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুর রহিম (২৫) ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের মোঃ আজিজুল হকের ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান আব্দুর রহিম। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি রাশিয়ায় চলে যান। সেখানে অবস্থানকালে একটি তেল ও গ্যাস কোম্পানিতে কাজ করছিলেন তিনি। তবে প্রায় এক মাস আগে চুক্তিভিত্তিকভাবে রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন বলে জানা যায়।
গত ৪ মে ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ান বাহিনীর পক্ষে লড়াই করার সময় গুলিবিদ্ধ হন আব্দুর রহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (১০ মে) তার মৃত্যুর সংবাদ পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
নিহতের ছোট ভাই আব্দুর রহমান জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে তিনি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমদিকে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তীতে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোন ও ভিডিও কলে কথা বলা বন্ধ করে দেন তিনি; শুধুমাত্র ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সীমিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল তার সঙ্গে কথা হয় পরিবারের। পরে সহযোদ্ধা ও পরিচিতদের মাধ্যমে ১০ মে রাতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুর রহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে বিদেশে গিয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়েন। তার এমন করুণ মৃত্যুতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে ভিড় করছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক ও মাতম বিরাজ করছে।
এদিকে নিহতের পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, অন্তত প্রিয়জনের মুখটি শেষবারের মতো দেখতে চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাংলাদেশি যুবক এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের আড়ালে ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।




