ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ৪নং সালটিয়া ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের জালাল সাহেব মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ইউসুফের ওপর সন্ত্রাসী হামলাকারী সাইফুল ইসলামকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৯ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
শনিবার দিবাগত রাত সোয়া বারটায় উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরমছলন্দ পুর্ব পাড়া গ্রামের মনজুরুল হকের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর রাত একটার দিকে এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে এ খবর নিশ্চিত করেন গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাহাদাৎ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম গফরগাঁও উপজেলার বখুরা গ্রামের মৃত করিম মাস্টারের ছেলে।

সে শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে গফরগাঁও উপজেলার বখুরা চৌরাস্তায় জামে মসজিদের সামনে একই গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে পুখুরিয়া মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক ও ইমাম মো. ইউসুফ আলীর ওপর হামলা করে আহত করেন। হামলার সময় ইউসুফ আলীর ডান চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে শনিবার সকাল ১০টায় গফরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী জামতলা মোড়ে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা, উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়| হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ ঘটনা তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের নির্দেশনা দিয়েছেন ময়মনসিংহ -৯ গফরগাঁও আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। এরপর পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার ২৯ ঘণ্টার মধ্যে আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুখুরিয়া মাদরাসার নূরানি বিভাগের ওই শিক্ষক এলাকায় অত্যন্ত নিরহংকার, ভদ্র ও দ্বীনদার মানুষ হিসেবে পরিচিত| গত শুক্রবার গফরগাঁও উপজেলার বখুরা গ্রামে এশার নামাজ চলাকালে মহল্লার কিছু যুবক উচ্চ শব্দে গান-বাজনা ও মেলার মাইকিং করছিল| নামাজে বিঘ্ন ঘটায় ওই শিক্ষক ও ইমাম শান্তভাবে তাদের শব্দ বন্ধ করার অনুরোধ করতে যান| এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই যুবকরা তাঁর ওপর নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়| এতে তিনি গুরুতর আহত হন| স্থানীয়রা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।




