ফ্রান্সের মুহুর্মুহু আক্রমণের সুনামি যেন কোনোভাবে সামলাতে পারল না সুইডেন। প্রথমার্ধের এক গোল আর দ্বিতীয়ার্ধের জোড়া আঘাতে সুইডিশদের মাঠে একপ্রকার ‘সেকানি’ দিল দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। কিলিয়ান এমবাপ্পে আর মাইকেল ওলিসেদের এমন নিখুঁত ও বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের সৌজন্যে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নতুন এক ইতিহাস গড়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ফরাসিরা।
নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ফ্রান্সের হয়ে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক এমবাপ্পে। আর অন্য গোলটি এসেছে ব্র্যাডলি বারকোলার পা থেকে।
এই জয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা ৫ ম্যাচে ৩ বা তার বেশি গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ল দিদিয়ের দেশমের দল। ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে শুরু করে চলতি আসরে সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে আর সবশেষ সুইডেনের জাল কাঁপিয়ে এই গোলের মহোৎসব করল ফ্রান্স। শেষ ষোলোতে এবার তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই সুইডিশ ডিফেন্সকে নাচিয়ে ছাড়েন ফরাসি ফরোয়ার্ডরা। ১৬ মিনিটে এমবাপের সহজ সুযোগ মিস আর ২০ মিনিটে ওলিসের গোল অফসাইডে বাতিল হলেও আক্রমণের ধার কমেনি একটুও। এরপর কুন্দের ক্রসে এমবাপের শট বারে লাগা আর ওলিসের দুর্দান্ত ওভারহেড কিক পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় ফরাসি সমর্থকদের।
তবে বারবার গোলপোস্টে ভাগ্য আটকে গেলেও ৪৫ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি সুইডেনের। দেম্বেলের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে সুইডিশ ডিফেন্ডারদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ১৭টি গোল করে জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬ গোল) টপকে গেলেন এই ফরাসি সুপারস্টার। এখন তার সামনে কেবল লিওনেল মেসি (১৯ গোল)। এ ছাড়া, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল এমবাপ্পের ৯ম গোল, যা বিশ্ব ফুটবলের নকআউট ইতিহাসে সর্বোচ্চ! তিনি ভেঙে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান ‘ফেনোমেনন’ রোনালদো ও লিওনিদাসের রেকর্ড (৮ গোল)।
বিরতির ঠিক আগে সুইডেনের এলিয়ট স্ট্রাউড ১০ গজের ফাঁকা জায়গা থেকে বল আকাশে উড়িয়ে মারলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। বিরতি থেকে ফিরে ৫৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। চুয়ামেনির পাস থেকে বল পেয়ে চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ব্র্যাডলি বারকোলাকে বল বাড়িয়ে দেন ওলিসে। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি বারকোলা।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে ওলিসের পাস থেকেই নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। ব্যাক হিলে ওলিসেকে বল দিয়ে ফিরতি পাস নিয়ে সুইডিশ গোলকিপারকে পুরোপুরি পরাস্ত করেন তিনি। এই গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৬-এ, যা এই আসরে মেসির সমান। অন্যদিকে, ওলিসে নিজের ৫ম অ্যাসিস্ট করে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিলের ব্রুনো গিমারায়েসকে।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে যখন এমবাপ্পেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন খোদ কোচ দিদিয়ের দেশম কুর্নিশ জানিয়ে মাঠের রাজা সম্বোধন করেন তাকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সুইডেনের ভিক্টর ইয়োকেরেসের একটি নিশ্চিত গোল ফরাসি বাজপাখি মাইক মাইনান রুখে দিলে ক্লিন শিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। জোড়া গোল, রেকর্ডের পাহাড় আর শেষ ষোলোর টিকিটুসব মিলিয়ে নিউ জার্সির রাতটি ছিল পুরোপুরি ফরাসিদের রঙে রঙিন।





