ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় দেশজুড়ে আলোচিত শিশু নিছামনি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত| একই সঙ্গে তাদের দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে| এছাড়াও মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে|
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন| আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— আরিফ, রাকিব ও সিয়াম| একই রায়ে কিশোর আসামি মারুফের বয়স বিবেচনায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়|
ময়মনসিংহের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিজ টুটুল জানান, ময়মনসিংহের কোনো আদালতে এই প্রথম ২৫ দিনে কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হলো| এরআগে ময়মনসিংহের পুলিশ ঘটনার পরপরই আসামীদের গ্রেফতার এবং নয় দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন বলেও জানান তিনি|
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের তাজু মিয়ার মেয়ে শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়| আসামীরা অপরাধের আলামত গোপন করতে ধর্ষিতাকে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়| এ নির্মম ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়| পরদিন ১৫ জুন নিছামনির পিতা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন| ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনে ৪ আসামির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ| পরে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে আদালত তিনজন আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন|
নিছামনির মা বলেন, ‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি| এই রায় দ্রুত কার্যকর হলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে| আমার মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়|’
নিছামনির বাবা তাজু মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের বয়স হয়েছিল ৪ বছর ৭ মাস| এই বয়সের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়| এই ঘটনা যেই শুনেছে সেই কান্না করেছে| আমি দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই এবং সরকার যেন এই রায় দ্রুত কার্যকর হয় তার দাবি জানাই|’
ময়মনসিংহে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে এ রায় ঘোষণা করা হলো| রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর ¯^জনরাও| স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ রায়ের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা পৌঁছাবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমাতে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে|





