এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে ১৯৬৪ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গুজিরকোনা ইউনিয়নে স্থাপিত হয়েছিল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকার চেয়ারম্যান সব্দুল তালুকদারের স্ত্রী কদরেন্নেছা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১ একর ৩ শতক জমি দান করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে তৎকালীন সরকার একতলা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণ করেন এবং আশপাশের প্রায় তিন ইউনিয়নের মানুষ গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যসেবা।

স্বাধীনতার পর থেকেই সীমিত সম্পদ দিয়ে বিশাল জনসংখ্যার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও স্থানীয়দের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণের।
স্থানীয় গুজিরকোনা, বাকলজোড়া ও কাকৈরগড়া ইউনিয়ন এবং নেত্রকোনা সদর উপজেলার একাংশে অবস্থিত জনগণের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে গুজিরকোনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। জনবল সংকট এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় ব্যাহত হতে থাকে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।

চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনের ক্যাম্পেইন চলাকালে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের কাছে স্থানীয়দের দাবি ছিল, এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে দেওয়ার। গুজিরকোনাসহ অন্যান্য এলাকার সাধারণ মানুষ, ১০-১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে দুর্গাপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া একদিকে যেমন কষ্টসাধ্য ব্যাপার অন্যদিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে আর্থিক জোগান দেওয়াও সম্ভব হয় না। যে কারণে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে ওই এলাকার মানুষ সবসময়ই বঞ্চিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছিলেন তিনি নির্বাচিত হলে অত্র এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে উন্নীত করে অন্তত ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ করে দেবেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনপরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকায় নানা উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি গুজিরকোনার সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুজিরকোনা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের চিঠি দেন। পরে ওই এলাকায় কমপক্ষে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন।

গুজিরকোনা বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, যেহেতু অধিকাংশ জনগণ এখনো আমরা গ্রামে বসবাস করি, সেহেতু গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পিছিয়ে রেখে কোনোভাবেই সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। অবহেলিত অত্র এলাকায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের যে উদ্যোগ নিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার, আমরা অত্র এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞ থাকব।
এ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা উল্লেখযোগ্য। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অত্র এলাকার অবহেলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে অসচ্ছল, হতদরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, আর্থিক অনুদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা, অসুস্থ রোগীদের ও দৃষ্টিহীনদের চিকিৎসা করানো, আশ্রয়হীনদের জন্য ঘর বিতরণ করে সাধারণ মানুষের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আর কোনো সংসদ সদস্যই করতে পারেননি। ধন্যবাদ জানাই ডেপুটি স্পিকারকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্থাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য।

এ নিয়ে ডা. গোলাম মাওলা বলেন, প্রথমে ডেপুটি স্পিকার স্যারকে ধন্যবাদ দেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। প্রথমে এই উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কারের চিন্তা করা হয়েছিল। যেহেতু বিস্তর জায়গা ও মানুষের চাহিদা রয়েছে, সেহেতু এখানে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। আমি ডেপুটি স্পিকার স্যারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করব।
এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল ওমর ফারুক, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান, মো. রফিকুল ইসলাম, আব্দুল মালেক তালুকদার, মো. আব্দুস সাত্তার মাস্টার, আনোয়ার হোসেন খলিফা, মনিরুজ্জামান আব্বাসী, সাংবাদিক সজিম সাইন, ইপিআই কর্মকর্তা সুব্রত চক্রবর্ত্তীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




