ময়মনসিংহ সিটি কর্পারশনর (মসিক) প্রশাসক মাঃ রুকুনাজ্জামান রোকন বলেছেন, সিটি কর্পোরশনের অনেক জায়গা বেহাত হয়ে আছে| এসব জায়গা চিহ্নিত করার কাজ চলছে| সিটি কর্পোরশনের সকল জায়গা উদ্ধার করা হবে| এ নগরীর জন্য যাদের অবদান ছিল এবং আছে তাদের স্মৃতি রক্ষার্থেও ভালো কিছু করে যেতে চান বলেও জানান তিনি| তিনি বলেন, ময়মনসিংহ নগরীত ৪০টি বস্তি রয়েছে| বস্তিতে বসবাসকারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন| বস্তিতে এক জগ সাপ্লাই পানি ভরতে ২৯ মিনিট লাগে| জেলা প্রশাসন জায়গা দিলে বস্তিবাসীদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেবে সিটি করপারেশন|
গতকাল দুপুরে নগরীর শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে সিটি করপারেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার ৬০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন| তিনি বিগত ৬০ কার্যদিবসে নগরীর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, অবকাঠামা উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বদ্ধি এবং চলমান বিভিন প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিতভাব উপস্থাপন করেন| এসময় নগর পরিকল্পনা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নগরায়ণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলাচনা করেন তিনি| সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা তুলে ধরে একাধিক প্রশ্ন ও পরার্মশ প্রদান করেন| সিটি প্রশাসক সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে মসিকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার কথাও জানান|
রুকুনাজ্জামান সরকার বলেন, ‘পানি সমস্যা দূর করত ১০টি সাবমারসিবল পানির পাম্প স্থাপন করে দিয়েছে সিটি র্কপোরেশন| পর্যায়ক্রম সব বস্তিতেই সাবমারসিবল পানির পাম্প করে দয়া হবে| ঈদে ৭০০ পরিবারক ঢেউটিন এবং প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারক ঈদ সামগ্রী দিবে সিটি করপারশন|’ তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রামের ফলে বষ্টির পানি আধাঘণ্টার মধ্যে নেমে গেছে| আকুয়া খালসহ্ অন্যান্য খালের নাব্যতা ফিরিয় আনা হয়েছে| ড্রেনগুলো পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে|’ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে যানজট সহনীয় পর্যায় নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানান তিনি|
সাংবাদিকদর উদ্দেশে মসিক প্রশাসক বলন, ‘যেখানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীর ভাত খাওয়ার টাকা নাই সেখান শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা খরচের আপাতত কোনো সুযোগ নেই|’ মসজিদ, মদির, শ্মশান, গারোস্থান সব জায়গায় সমহারে উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের বেহাত হওয়া সব সম্পদ উদ্ধার করা হবে| কারো দখলে থাকতে দেয়া হবে না|’
সিটি প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর কয়েকটি বস্তিতে মানুষ অমানবিক পরিবেশে বসবাস করেন| সেসব বস্তির মানুষের বাড়ির ঘরের চালা পলিথিন দিয়ে তৈরী| এই পলিথিন দিয়েই তারা বষ্টির পানি আটকায়| আসন্ন ঈদ উপলক্ষ তাদের ঘরের চালা তৈরি করার জন্য প্রথম ধাপে ৭শ পরিবারক ঢেউ টিন দেয়া হবে| পরবর্তীতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে|’
নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রনে আনতে দুই মাস সময় চেয়ে সিটি প্রশাসক বলেন, ‘নগরীর অটারিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে আগামী দু’মাসর মধ্যে একটি নিয়মের মধ্যে আনা হবে| প্রয়াজনে চালকদের রক্ত পরীক্ষা করে এদের মাদক সংশ্লিষ্টতা পরীক্ষা করা হবে| নগরীর বস্তিবাসীদের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজটমুক্ত, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে, তা অব্যাহত থাকবে|’ তিনি একটি সুদর সুশংখল নগরীর জন্য নগরবাসীর সহযাগিতা কামনা করেন|
সাংবাদিকদর লখার অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে বলে উল্লখ করে সিটি প্রশাসক বলেন, ‘নগরবাসীর কাক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে মসিক আত্মরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে| এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযাগিতা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে|’ সিএনজি চালিত অটোরিকসার চাঁদাবাজি বন্ধ, পাটগাদাম ব্রীজের মোড় যানজট নিরসন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করতে সাংবাদিকদের সহযাগিতা কামনা করেন তিনি| সিটি প্রশাসক বলেন, ‘আমরা নিজ বদলে গেলে নগর বদলে যাবে, নগর বদলে গেলে সমাজ বদলে যাবে| আসুন ময়মনসিংহকে সুন্দর বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলি|’ এজন্য তিনি নরগরীবাসির কল্যাণে প্রতিদিন নিয়মিত মাঠ থাকবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন|





