বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রায় ৬৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত সকালের নাস্তা না করেই ক্লাসে অংশ নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ সপ্তাহের সাত দিন নিয়মিত সকালের নাস্তা করেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের মধ্যে সকালে ফল খাওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি; প্রায় ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ছাত্রী নিয়মিত ফল গ্রহণ করেন। সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে উঠে আসা এসব তথ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৮৬ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ছিলেন ছাত্র এবং ৪১ শতাংশ ছাত্রী।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী সকালের নাস্তা না করেই ক্লাসে যান এবং অনেকেই সরাসরি দুপুরের খাবার খান। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন প্রবণতা লক্ষ্য করছেন।
তিনি মনে করেন, শুধু বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৮টা থেকে টানা ক্লাস পরিচালিত হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি হন।
এ প্রবণতার পেছনে জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক গোলজার হোসেন বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাত ১টা–২টার আগে ঘুমাতে যান না; কেউ কেউ রাত ৩টা–৪টা পর্যন্ত জেগে থাকেন। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে সতেজভাবে সকাল ৮টার ক্লাসে উপস্থিত হওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস সূচিও এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে ৮টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত একটি ক্লাস চলে। এরপর মাত্র পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে পরবর্তী ক্লাস শুরু হয়। এত অল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়াশরুম ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে নাস্তা করার সুযোগ প্রায় থাকে না। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরও ক্লাস চলতে থাকায় শিক্ষার্থীরা বিরতির সামান্য সময়টুকুও পান না।
অধ্যাপক গোলজার হোসেনের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষদেই শিক্ষার্থীদের জন্য সহজলভ্য মানসম্মত ক্যান্টিন বা স্বাস্থ্যকর খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্লাসের ফাঁকে দ্রুত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগও সীমিত।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন নিয়মিত সকালের নাস্তা বাদ দিলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নিয়মিত সকালের নাস্তার কোনো বিকল্প নেই।
সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের রাত জাগার অভ্যাস কমিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত প্রতিটি অনুষদে মানসম্মত ক্যান্টিন বা স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা এবং অন্তত প্রতি দুইটি ক্লাসের পর ১০ মিনিটের বিরতি নিশ্চিত করা। এতে শিক্ষার্থীরা নাস্তা বা হালকা খাবার গ্রহণের পাশাপাশি কিছুটা বিশ্রাম নিতে পারবেন, যা তাদের স্বাস্থ্য ও পাঠদানে মনোযোগ ।উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।







