পুত্রাজায়া: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম বলছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিরসনে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। আসিয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রচেষ্টা উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশে এবং এখানেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা নিরসনে কাজ করব।
"সমস্যার আংশিক সমাধানের জন্য আমরা আসিয়ান ব্যবস্থার মাধ্যমে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব," সোমবার (২২ জুন) পুত্রাজায়ায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এর আগে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন আনোয়ার। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান তাঁর প্রথম সরকারি সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর তারেককে অভিনন্দন জানানো প্রথম দেশগুলোর মধ্যেও এটি অন্যতম।
বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আনোয়ার বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে এবং গাজায় সংঘটিত নৃশংসতার নিন্দা জানাতে দুই দেশ একজোট হয়েছে। "ইসরায়েলি শাসনের দ্বারা গাজায় সংঘটিত অপরাধ ও নৃশংসতা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে স্থায়ী শান্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বিষয়ে আমরা একমত," তিনি বলেন।
আনোয়ার বলেন, তিনি তারেকের পরিবারকে বহু বছর ধরে চেনেন। যুবনেতা হিসেবে এবং পরে উপ-প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তাদের প্রথম সাক্ষাতের কথা তিনি স্মরণ করেন। তিনি প্রতিকূলতা সহ্য করা এবং নিজের আদর্শে অবিচল থাকার জন্য এই বাংলাদেশী নেতার প্রশংসা করেন।
আনোয়ার বলেন, "(তিনি) তাঁর দেশের মানুষের স্বাধীনতা ও অগ্রগতির জন্য, যাদের তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন, প্রতিকূলতা সহ্য করেছেন এবং নিজের আদর্শে অবিচল থাকার জন্য সংগ্রাম করেছেন।" তিনি তারেককে একটি বৃহত্তর পরিবারের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, "আমরা আপনাকে এই বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলে মনে করি... আমি আমাদের মধ্যকার এই বন্ধন এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য উন্মুখ।"
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী ড. জুবাইদা রহমানসহ দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন।
সুত্র : দ্যা স্টার মালয়েশিয়া।




