মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের সামনে চুক্তির বিভিন্ন ধারা তুলে ধরেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি নিজেও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে তেহরানের প্রতিশ্রুতিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, গত রোববার ডিজিটালভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুক্তিতে যে ১৪ টি বিষয়ে একমত হয়েছে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো হলো-
যুদ্ধের অবসান : চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এর মধ্যে লেবানন সংশ্লিষ্ট সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হামলার হুমকি থেকেও বিরত থাকবে উভয় পক্ষ।
সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান : দুই দেশ পরস্পরের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি : উভয় পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতিতে সময়সীমা বাড়ানো যাবে।
নৌ অবরোধ প্রত্যাহার : চুক্তি সইয়ের পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া : ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যে বাণিজ্যিক নৌপরিবহন স্বাভাবিক করতে মাইন অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক তহবিল : যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার : চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ওপর থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।




