ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তবর্তী উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো সার্ভেয়ার না থাকায় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে স্থায়ী সার্ভেয়ার না থাকায় পাশের ধোবাউড়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আব্দুল হাইকে সপ্তাহে দুই দিনের জন্য হালুয়াঘাটে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি ঠিকমতো অফিসে উপস্থিত হন না। তার ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক কাজ।
ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সার্ভেয়ারের অনুপস্থিতির কারণে জমির ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারণ) আটকে থাকছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি ভেস্তে যাচ্ছে নামজারি বা খারিজের আবেদনগুলো।
ইব্রাহীম নামের এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি গত ৩-৪ মাস ধরে একটি নামজারির জন্য তিনবার আবেদন করেছি। কিন্তু সার্ভেয়ার না থাকার কারণে সীমানা নির্ধারণ বা ডিমারকেশন রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে না। ফলে বারবার আমার নামজারি আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।"
একই ধরনের অভিযোগ করেন কাঞ্চন মিয়া নামের আরেক সেবাগ্রহীতা। তিনি জানান, "আমার একটি জমির নামজারির জন্য ডিমারকেশন করা জরুরি। গত ৩ মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছি, কিন্তু সার্ভেয়ার না থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মোঃ আব্দুল হাই জানান, "হালুয়াঘাট একটি বড় উপজেলা। বর্তমানে প্রায় ৫০০ ফাইল আটকে আছে। কাজের যে চাপ, তাতে হালুয়াঘাটের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একজন স্থায়ী সার্ভেয়ার নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।"
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভূমি জাকিয়া সুলতানা রোজী জনভোগান্তির কথা স্বীকার করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তঘেঁষা ও আয়তনে বিশাল এই উপজেলায় ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত একজন স্থায়ী সার্ভেয়ার পদায়ন করে জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।








