ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ছাত্রদলের আটটি ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা চলছে। খেরুয়াজানি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হাসানকে ছাত্রদলের সভাপতি করায় আলোচনার ঝড় বইছে। কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের রাজনৈতিক অতীত ও সাংগঠনিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে তিন নেতা লিখিতভাবে পদত্যাগ করেছেন।

গত ২৩ অক্টোবর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে আটটি ইউনিয়নে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর কুমারগাতা, বাশাঁটি, মানকোন ও খেরুয়াজানি ইউনিয়নসহ কয়েকটি কমিটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়।
কুমারগাতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রকি ও বাশাঁটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের শাকিল হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সুবিধা নিয়ে ছাত্রদলের কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ফটোকার্ডও ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হয়েছে, একজন ছাত্রলীগের কর্মীকে কীভাবে ৫নং বাসাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বানানো হলো। সে বিবাহিত। তার দুটো বাচ্চা আছে। সে মাদকাসক্ত। কিছুদিন আগে রেজোন সাহেবের খলায় নেশাগ্রস্ত ভাবে পড়েছিল।
অন্যদিকে, মানকোন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এমদাদুল হক রানা, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান নিশাত ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম রিফুলকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রানা ও নিশাতের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগী থাকার অভিযোগ উঠেছে।আরিফুল ইসলাম রিফুল স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা অবস্থায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া খেরুয়াজানি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান ও দপ্তর সম্পাদক নাঈম সরকারকে নিয়েও ছাত্রদলে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলা হয়েছে, একজন মূর্খকে যার ছাত্রত্বও নেই, যে কিনা নিজের নামটা লিখতে পারে না তাকে ছাত্রদলের সভাপতি বানিয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) লিখিত পদত্যাগপত্রে ৬ নম্বর মানকোন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিলুল ইসলাম জিহাদ অভিযোগ করেন, কমিটিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও সুবিধাভোগীদের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলার শিকার ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এমদাদুল হক রানার বিরুদ্ধেও বিগত সরকারের নিষিদ্ধ সংগঠনের সহযোগী থাকার ।
জিহাদ ছাড়াও একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহরিয়ার নাফিজ শুভ এবং বাশাঁটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন হৃদয় পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে কমিটি ঘোষণার পর তিন নেতার পদত্যাগের ঘটনা দলীয় অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব হাফিজ ফরাজী বলেন, ‘ছাত্রদল প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। মেধাবী ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পদ পেয়েছেন। কমিটি নিয়ে ছাত্রদলের মধ্যে কয়েকজনের হতাশা কাজ করছে।’







