ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি সরকার ও দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করে পুলিশের দিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ওই নারীকে তাঁর মালিকানাধীন বিউটি পারলারে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশে দেওয়া হয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা এ ঘটনা ঘটে। আজ বিকালে ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক সাজেদুল ইসলাম জামিন আবেদন নাকচ করে সাথীকে কারাগারে পাঠান।
এর আগে রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঘনঘন চুরির ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তার দু’টি শোরুম ও আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকানের বিদ্যুতের তার, এসির তার এবং বাসা থেকে অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সব হারিয়ে আজ পাগল হওয়ার মতো অবস্থা। কাকে ভোট দিয়ে আজ এই ভুক্তভোগী হলাম! লাইভে তিনি ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করে বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
লাইভটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর নজরে আসে এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে উত্তেজিত জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সাথী আক্তারের পার্লারে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমতাবস্থায় পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথী আক্তারকে নিরাপত্তা ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়ে থানায় যায়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, বিউটি পার্লারে হামলার আশঙ্কায় খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসে। ফেসবুকে লাইভ বা সমালোচনার জের ধরেই হয়তো স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা বা সমালোচনার অধিকার থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়েছি। তবে ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকার বিরোধী কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। আজ প্রসিকিশন দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ভালুকার ওসি বলেন, “আমরা যদি তাকে (সাথী) না নিয়ে আসতাম, তাহলে একটা ঘটনা ঘটতে পারতো। আমরা আশা করেছিলাম, ব্যবসায়ীরা কেউ এলে তাকে দিয়ে দেব। কিন্তু আদালতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর তারা এসেছেন।”
১৫১ ধারায় অভিযোগ কেন আনলেন, এই প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, সাথী মারমুখী আচরণ করেছেন, যে কারণে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।







