ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়া তিনটি বগি প্রায় ১৫ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর সরিয়ে নেয়া হয়েছে| তবে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে|
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২টার দিকে লাইনচ্যুত বগিগুলো উদ্ধার সম্পন্ন হয়| বর্তমানে ময়মনসিংহের সাথে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ|
সূত্র জানায়, বুধবার (২৪ জুন) রাত পৌনে ১১টার দিকে জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী বিজয় এক্সপ্রেস গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনের পর পুনরায় যাত্রা শুরু করে| ট্রেনটি স্টেশনের আউটার সিগন্যাল অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে এর তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়| দুর্ঘটনার পর লাইনচ্যুত তিনটি কোচ স্টেশন এলাকায় রেখে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে বিজয় এক্সপ্রেসের বাকি অংশ চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়|
পরে দুর্ঘটনাকবলিত কোচ উদ্ধারে ময়মনসিংহ থেকে একটি রিলিফ ট্রেন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে| দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তিনটি বগিই উদ্ধার করা সম্ভব হয়| তবে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ তখনও শেষ হয়নি|
গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে লাইনচ্যুত তিনটি কোচ উদ্ধার করা হয়েছে| বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলের রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে| তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে|
বিজয় এক্সপ্রেসের পরিচালক মাসুদ মিয়া জানান, আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টা ২২ মিনিটে গৌরীপুর জংশনে প্রবেশ করে এবং রাত ১০টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়| ট্রেনটি স্টেশন ত্যাগের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পেছনের তিনটি কোচ লাইনচ্যুত হয়|
তিনি বলেন, ট্রেনটির গতি তখন কম ছিল| চালক দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পেরে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন| ফলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে| তবে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়| তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে|
ট্রেনের যাত্রী ইফতেখার ইসলাম জানান, তিনি দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি কোচের মধ্যে দ্বিতীয় কোচে ছিলেন| হঠাৎ বিকট শব্দ ও ঝাঁকুনিতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে| অনেকেই জীবন বাঁচাতে এবং মালামাল নিয়ে দ্রুত কোচ থেকে নেমে যান|
আরেক যাত্রী নেওয়াজ আলী বলেন, পেছনের কোচগুলো থেকে নামার সময় হুড়োহুড়ি ও ঝাঁকুনিতে সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন| তাদের মধ্যে একটি শিশুর অবস্থা গুরুতর ছিল| ¯^জনরা বলেন, তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাবে|
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করে| পাশাপাশি যাত্রীদের মালামাল নিরাপদ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আকতার হোসেন বলেন, ‘বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর সেগুলো স্টেশনে রেখে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হয়|’
ময়মনসিংহ স্টেশনের আরএনবি’র হাবিলদার গোলাম মওলা জানান, কম্পিউটারভিত্তিক রিলে ইন্টারলকিং সিস্টেমে ত্রুটির কারণে লাইন ক্লিয়ার না হওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে| রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ সম্পন্ন হয়েছে| বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে| ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে|






