গভীর ঘুমের সময় হঠাৎই উঁচু থেকে পড়ে যাচ্ছি- এমন মনে হওয়ায় ধড়ফড়িয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা আমাদের অল্পবিস্তর সকলেরই আছে। ঘুমের মধ্যে পায়ে বা গোটা শরীর জুড়ে ঝাঁকুনির অনুভূতিতেও অনেকেরই ঘুম ভেঙে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর একটা নাম আছে - হিপনিক জার্ক।
হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঘনঘন শ্বাস নেওয়া, ঘাম হওয়া, আচমকা ঝাঁকুনি বা শূন্যে পড়ে যাওয়ার মতো এক অদ্ভুত সংবেদনশীল অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত এই হিপনিক জার্ক।
এটা কী? কেন হয়, এটা কি স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ? কাদের সতর্ক থাকতে হবে- এই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে বুঝতে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজার সঙ্গে বিশদে কথা বলেছে বিবিসি তামিল।
হিপনিক জার্ক কী?
ঘুমের মধ্যে উঁচু একটা জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে মাঝরাতে জেগে ওঠার অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয় বলে ব্যাখ্যা করেছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিন্ধুজা।
তার কথায়, "এটা যে শুধু আপনারই হচ্ছে তা নয়। দশজনের মধ্যে সাতজনই কোনো না কোনো সময় এমনটা অনুভব করেছেন।" তিনি জানিয়েছেন, হিপনিক জার্ক বা এই আচমকা ঝাঁকুনির তীব্রতা একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কেউ কেউ অনুভব করতে পারেন, কেউ আবার সেভাবে অনুভব করেন না।
ডা. সিন্ধুজা বলেছেন, "ব্যক্তি বিশেষে এর তীব্রতা নির্ভর করে। কারো কারো কাছে এটা এতটাই হালকা যে তারা নিজেরা এটা অনুভব করতে পারেন না। পাশে ঘুমিয়ে থাকা কেউ বা পরিবারের লোক সেটা লক্ষ্য করে।"
"কারো ক্ষেত্রে আবার এটা খুব গুরুতরও হতে পারে। এর তীব্রতা এতটাই বেশি যে তারা ঘুম ভেঙে উঠে বসেন।"
হিপনিক জার্ক আসলে অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন যা ঘুমের সময় ঘটে। ডা. সিন্ধুজা ব্যাখ্যা করেছেন, "যখন কোনো ব্যক্তি জেগে থাকা অবস্থা থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় যান, সেই সময়, অর্থাৎ ঘুমের প্রথম পর্যায়ে বা দ্বিতীয় পর্যায়ে এটা ঘটে।"
আমাদের ঘুম সাধারণভাবে দু'টো প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত- নন র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা এনআরইএম এবং র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম। আর আমাদের ঘুমের চক্র চারটে পর্যায়ে বিভক্ত। এই চারটে পর্যায় ৯০ থেকে ১১০ মিনিট অন্তর পরিবর্তিত হয়।
এন ১- (হালকা ঘুম): এই পর্যায়টা জেগে থাকা এবং ঘুমের মধ্যবর্তী অবস্থা। এই সময় আমাদের পেশী রিল্যাক্স বা শিথিল হতে শুরু করে।
এন ২ (মাঝারি ঘুম): এটা এমন একটা অবস্থা যেখানে হার্টের বিটের হার এবং শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
এন ৩ (গভীর ঘুম): ঘুমের এই অবস্থাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় যা শরীরকে সামঞ্জস্য রক্ষা করতে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
আরইএম (ড্রিম পোজিশন): এই সময় চোখের তারার ঘোরাফেরা লক্ষ্য করা যায়। এই পর্যায়ের সঙ্গে আমাদের স্বপ্ন দেখারও সম্পর্ক রয়েছে।
ডা. সিন্ধুজা জানিয়েছেন যে এই ঝাঁকুনি প্রথম দু'টো পর্যায়ে ঘটে। এই সময় যে অনুভূতিগুলো সাধারণত অনুভূত হয় তা হলো-
হঠাৎ পড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি।
হঠাৎ শক বা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো একটা অনুভূতি।






