ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা সেই নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন। আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাঁকে জামিন দেন। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার ধার্য তারিখ ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় জামিন দেন। আজই তাঁকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়া রয়েছে। মোস্তাছিনুর রহমান আরও জানান, এ মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতারের পর পুলিশ যে প্রতিবেদন দাখিল করবে, তা পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে দু’টি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ভিডিও দু’টিতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
সেই ভিডিও দেখে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে ওইদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। পরদিন সোমবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠায় ভালুকা থানা পুলিশ।

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার প্রথম স্বামী মারা যাবার পর তিনি বিয়ে করলেও সেই স্বামীর সাথে তার বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গনে সাথী আক্তার ওই দিনের ঘটনা বর্ণনা করে টাইমসকে বলেন, ‘ওইদিন আমি ১২টার দিকে লাইভ করেছিলাম। প্ল্যান করে তারা ৪টার আগেই আমার সাথে খারাপ আচরণ করে এবং আমাকে মারধরও করেছে। যা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই পাওয়া যাবে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে সেই দৃশ্য ভিডিও করায় আমার মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয় এবং ভিডিও ডিলিট করে দেয়। আমাকে সাড়ে দশটায় কেন গ্রেফতার দেখানো হলো এমন প্রশ্ন করেন তিনি। পুলিশ আমাকে হেফাজতে নিতে পারতো কিন্তু নেতাকর্মীরা আমার গায়ে হাত দিতে পারে না। আমি মনে করি এটা অপরাধ করেছে। বলেন সাথী আক্তার। আমাকে হেনস্থা করার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিও জানান তিনি। ঘটনার দিন স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা উসকানিমুলক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। তারা (বিএনপি কর্মীরা) আমার দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছে এমন অভিযোগও করেন সাথী আক্তার। দলীয় নেতাকর্মীরা যদি এমনই আচরণ করে তাহলে সরকারের বদনাম হলে বলেও মনে করেন তিনি।
সাথীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ টাইমসকে বলেন, ‘আমি আদালতকে বলেছি সাথী আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা। তার প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকজন কাজ করে। তিনি ১২/১৪ বছর ধরে বিউটি পার্লারের ব্যবসা করছেন। এই ২৬ সালে ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তার চুরি হয়েছে। এনিয়ে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করেছে। তার মানে এই না যে, সরকারের কোনো সমালোচনা করেছে। তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু পুলিশ যারা তার সাথে (সাথী আক্তার) মব করেছে, তাদেরকে গ্রেফতার না করে উল্টো সাথী আক্তারকে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করেছেন।’









