নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুল হকের ৯১ ও মুশফিকুর রহিমের ৭১ রানের সুবাদে মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অল আউট হয় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিন সেই সংগ্রহ আরো বড় হতে দেননি পাঁচ উইকেট নেয়া পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। অবশ্য এই বড় সংগ্রহের বিপক্ষে ব্যাট করতে নেমে স্বস্তি নিয়েই দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে পাকিস্তান। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের ৮৫* রানের ১ উইকেটে তুলেছে ১৭৯ রান। তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে বাংলাদেশের চেয়ে ২৪৩ রানে পিছিয়ে থেকে। তবে দুই ক্যাচ মিসের অস্বস্তি আছে বাংলাদেশের।
বড় সংগ্রহ সামনে রেখে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বেশ ভালো শুরু পায় পাকিস্তান। আজানের সাথে ওপেনিংয়ে ১০৬ রানের জুটি গড়েন ইমাম উল হক। সেই জুটিতে দুজনই শটস খেলেছেন প্রচুর, তিন পেসার তাসকিনা আহমেদ, এবাদত হোসেন ও নাহিদ রানাকেও সামলেছেন দারুণ হাতে। যদিও ইনিংসের ১৬-তম ওভারে প্রথম বল করতে আসা মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ধরেই দিনের একমাত্র সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ২১-তম ওভারে তার বলেই এলবিডব্লিউ হয়েছেন বাঁহাতি ইমাম। খেলেছেন ৭২ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। যদিও ইমাম ফিরতে পারতেন এর আগেই।
ইনিংসের অষ্টম ওভারে এবাদতের করা বল স্লিপে উড়ে যায় ড্রাইভ করার পর ২৩ রানে ব্যাট করতে থাকা ইমামের ব্যাট ছুঁয়ে। কিন্তু বাম দিকে ঝাঁপিয়েও সেটা তালুবন্দি করতে পারেননি তৃতীয় স্লিপে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর দিনের শেষ সেশনেও পড়তে হয়েছে ক্যাচ মিসের হতাশায়। ইনিংসের ৪৩-তম ওভারে তাসকিনের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে গালিতে ক্যাচ তোলেন আরেক অভিষিক্ত আবদুল্লাহ ফজল। তবে দেরিতে ক্যাচের জন্য ঝাঁপ দেয়াতে ঠিকঠাক সেটা হাতে জমাতে পারেননি সাদমান ইসলাম। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এর আগে ৩০১/৩ নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশ প্রথম ঘণ্টাতেই হারিয়েছে তিন উইকেট। লিটন দাসকে দিয়ে শুরু, এরপর ফিরেছেন মিরাজও। টেইলএন্ডার তাইজুল ইসলাম আব্বাসের চতুর্থ শিকার হওয়ার আগে খেলেছেন ২৩ বলে ১৭ রানের ইনিংস। আব্বাস এরপর এবাদতকে বাউন্সারে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে পূর্ণ করেছেন নিজের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট।
আশার প্রতীক হয়ে টিকে থাকা মুশফিক ফিরেছেন লাঞ্চ ব্রেকের পর প্রথম ওভারেই। ব্যক্তিগত ৭১ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদির ভেতরে ঢোকা বলের লেট সুইংয়ে বোল্ড হন এই ডানহাতি ব্যাটার। ৩৮৪ রানে নবম উইকেট পতনের পর দলীয় ৪০০ দূরের পথই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের। সেখান থেকে তাসকিনের ১৯ বলে ২৩ রানের ইনিংসে ৪১৩ পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ।





