বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সরকার ও বিএনপি অংগীকারাবদ্ধ । সে কারণেই ২০০৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত অর্থ বছরে পরিবেশ খাতকে সর্বোচ্চ গুরত্ব দেয়া হয়েছে। এই বাজেটে ৫ বছরে ২৫ কোটি নতুন বৃক্ষ রোপন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, সবুজ কর্মসংস্থান, এক শিশু এক গাছ, পরিবেশ বান্ধব চাষাবাদসহ উপস্থাপিত পদক্ষেপে তারেক রহমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের ঘোষিত বাজেটকে দেশবাসী, অর্থনীতিবিদ এবং বোদ্ধা মহল ইতিবাচক বললেও জমায়াত-এনসিপি নেতারা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রমাণ করেছেন তাদের মস্তিস্ক, মন, চোখ ও কানের চিকিৎসা প্রয়োজন ।

তিনি আজ শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের বৃক্ষ রোপন কর্মসুচির উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন ।
সকালে কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপন“ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৃক্ষ রোপন অভিযান উদ্বোধন করার পর পরই ধোবাউড়ায় জেলা পরিষদের ডাক বাংলো চত্বরে গাছের চারা রোপন করে ময়মনসিংহ জেলায় জেলা পরিষদের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী সুচনা করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ আগামী ১৮০ দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জেলা পরিষদের নিজস্ব স্থাপনা ও প্রকল্পভুক্ত এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করবে।
এ উপলক্ষে ধোবাউড়ায় জেলা পরিষদ ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠানে এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, দেশের অর্থনীতিবিদগণ প্রস্তাবিত বাজেটকে “অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে একটি চিন্তাশীল বাজেট, মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টা, অর্থনীতিতে গতিশীলতা ও চাঞ্চল্য আনার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা“ হিসেবে চিহ্নিত করলেও আমাদের বিরোধী নেতারা বাজেটকে ‘গণবিরোধী ও লুটপাটবান্ধব’ বলে আখ্যা দিয়ে প্রমাণ করেছেন তারা মানসিকভাবে অসুস্থ ।

তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের সমস্যা, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিএনপি রাজনীতি করে। এর ভিত্তিতেই বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিল। এই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে দেশ ও জনগণের কাংক্ষিত উন্নয়ন অবধারিত। তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট একটি জনকল্যাণমুখী, কর্মসংস্থানবান্ধব এবং পরিবেশ-সচেতন বাজেট। এই বাজেটে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রতিটি নাগরিককে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করতে, অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আমি সবাইকে আহ্বান জানাই—প্রিয়জনকে গাছ উপহার দিন, সন্তানদের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করুন এবং রোপিত গাছ পরিচর্যা করুন। নিজের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগান এবং সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে বড় করে তুলুন। একটি গাছ বড় হতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কিন্তু তা কাটতে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট। তাই একটি গাছ কাটলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোকে সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। শুধু গাছ রোপণ করলেই হবে না, সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে সবাইকে এ আন্দোলনের অংশীদার হতে হবে। “










