গণমাধ্যমকর্মী ও সংবাদপত্র সেবীদের জন্য অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন ও অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে সাংবাদিক সমাজ তীব্র আর্থিক সংকটে দিশাহারা। ২০১৯ সালে সাংবাদিকদের জন্য ঘোষিত ‘নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ’ নানা আইনি ও প্রশাসনিক অজুহাতে অনেক সংবাদমাধ্যম আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন কমিটি গঠনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সম্প্রতি অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেলে ব্যাপক বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে; তবে গণমাধ্যমকর্মীদের বাদ রেখে কেবল সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা বাড়ালে সমাজে তীব্র বৈষম্য তৈরি হবে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের জন্য অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা ও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন, সেভাবে সাংবাদিকদের বেতনও বাড়িয়ে অবিলম্বে ১০ম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, ডিইউজের সহ-সভাপতি রফিক মুহাম্মদ ও রাশেদুল হক, বিএফইউজের নেতা মোদাব্বের হোসেন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, বাসস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারি কর্মচারীরাও দিনযাপনের কষ্টে রয়েছেন। সরকার তার সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছেন, এতে তারা আনন্দিত ও খুশি হয়েছেন। তবে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি তেল, সবজি, চাল, ডাল, আটা, রুটি, কাপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিকরা যে বেতন পান, তা দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘সিনিয়র সাংবাদিকরা মারা যাচ্ছেন, কিন্তু হাসপাতালের বিলটাও দিতে পারেন না। গতকালও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে, প্রায় দিনই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সিনিয়র সাংবাদিকরা ৪০ বছর সাংবাদিকতা করেছেন, তাদের গ্রামের বাড়িতে লাশ বহন করার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াটাও এখন জোগাড় করতে পারেন না। এত কষ্টের মধ্যেই বাংলাদেশের সাংবাদিকরা আছেন। অথচ সবচেয়ে শ্রম বেশি ব্যয় করতে হয় সাংবাদিকদেরকে।’






