দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক ও বরেণ্য কবি আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, জুলাই হলো ফ্যাসিবাদ বিরোধী অগ্নিগিরি। ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রাম ও জুলাই একসূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে সবক’টি দেশের স্বাধীনতা এসেছে আলোচনার টেবিলে। একমাত্র দেশ বাংলাদেশ যার স্বাধীনতা এসেছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। তিনি আরো বলেন, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষহীন একটা মর্যাদাশীল আত্ম নির্ভরশীল বলিয়ান দেশ হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে। এটাই হবে জুলাইয়ের দীপ্ত অঙ্গিকার।

জুলাইয়ের গান, কবিতা ও কথামালাকে ঘিরে শুক্রবার বিকেলে ময়মনসিংহের সাহেব কোয়ার্টার শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত বুকের ভেতর দারুণ ঝড় ‘জুলাই কনসার্টে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিলেন ময়মনসিংহ ফোরাম।
কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, মযমনসিংহ একটি অনুপম জায়গা। ওস্তাদ জালাল খা, কবি রওশন ইজদানি, কবি আব্দুল হাই মাশরেকি, কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ এই ময়মনসিংহের সন্তান। তিনি তাঁদেরকে স্মরন করে ময়মনসিংহের সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র মানেই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, যিনি ময়মনসিংহ এবং চিত্রকর্মকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে বিষ্ফোরনে সব ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছিল, সেটিই হচ্ছে জুলাই বিপ্লব। যার মাধ্যমে দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের পতন ঘটে এবং ফ্যাসিবাদ বিলুপ্ত হয়। জুলাইয়ের ছেলেমেয়েরা ঝাঁকে ঝাঁকে আবাবিল পাখির মত রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এক দফা দাবি আদায়ে। জুলাইয়ের সাথে মিশে আছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের ইতিহাস। তিতুমীর, পলাশীর বিপ্লব, ফরায়েজি আন্দোলন, ফকির মজনু শাহ্ এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন সবকিছুর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে জুলাই বিপ্লব।

তিনি বলেন, ৪৭ এর দেশভাগ, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে একাত্তরের গৌরবগাঁথা সবকিছুর সাথেই মিশে আছে এই জুলাই বিপ্লব। যার মাধ্যমে বাংলার তরুন তরুনীরা এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।
তৎকালীন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদ, ওয়াসিম আকরাম ও মীর মুগ্ধর আত্মত্যাগ এবং মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যে জাতি মরতে শিখেছে, প্রাণ দিতে শিখেছে তাদের প্রত্যেকেই বীর মুক্তিযোদ্ধার সমতুল্য। জুলাই ব্যর্থ হতে পারে না, জুলাই কে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না। তিন দিক দিকে ঘেরাও হয়ে থাকা দেশকে সেই দেশ থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে যেখানে সব পাপী, কুচক্রীরা আশ্রয় নিয়ে আমাদের ঐক্য নস্যাৎ করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে। তাই সবাইকে হুশিয়ার করে সাবধান থাকার আহবান জানিয়ে সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকতে বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি কবি এহসান হাবীব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি মুহাম্মদ মুস্তাসীম বিল্লাহ ও কবি আহমদাল হোসাইন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জুলাই কনসার্ট উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক কথাশিল্পী শাহ্নাওয়াত বকুল।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক ও বরেণ্য কবি আবদুল হাই শিকদার। আশরাফ মীর, সরওয়ার আজিজ, রওশন হেনরী, শামীম সিদ্দিকী, কাজী নাসির মামুন, শাহ্নাজ শাহ্নাওয়াত, আলী ইউসুফ, মোস্তফা তারেক, সর্বজিৎ বাড়ৈ, সাইয়েদ জাবিন, জব্বার আল নাঈম, পলিয়ার ওয়াহিদ, সজল উজ্জ্বল, তরিকুল ফেরদৌস, রফিক লিটন, আরিব আজম, রাসেল রায়হান, ফেরদৌসুল মনিরা লাভনী, সজদুল ইসলাম, আহমেদ ইসহাক, আরাফাত বিলোক ও সীমান্ত তন্ময়।

জুলাই কনসার্টে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন অমত মন্ডল, সায়ন্ত দত্ত, কমলদ্বীপ মন্ডল, সহিদ আমিনী রশী, হীরক সিপার, এজাজ, ডি. এইচ. রনি, আনোয়ারা হোসেন আকাশ, সৌমিত্র পাল, খালিদ হোসেন সাজিদ, শান্তা শশী নিপান, সুব্রত কুমার প্রান্ত, আকবর হাশমী রাকসাজ জনি, শান্ত বর্ণন, সাইফুল ইসলাম রিগ্যান, অরূপ চৌধুরী রঞ্জু, সাখাওয়াত ইসলাম সিহাব, লিমন সজীবুর, বিশ্ব ঘোষ এবং সানিউজ্জামান রিজন।
বিকেলের মেঘাচ্ছন্ন আকাশের প্রাণচঞ্চল বৈশাখী মঞ্চে ‘জুলাই কনসার্ট’-এ জুলাইয়ের চেতনা ও আবেগকে ধারণ করে গান, কবিতা আবৃত্তি এবং কথামালার মধ্য দিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করে শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীসহ সর্বস্তরের মানুষকে অংশ নেন।এরআগে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্টানের সূচনা করা হয়। অন্যতম জুলাই সংগঠক নাজমুল হককে পরিচয় করিয়ে দেন কবি এহসান হাবিব।







